অক্টোবর ৭, ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
কক্সবাজারের রামু উপজেলায় মালচিং পদ্ধতিতে বর্ষা মৌসুমে চার জাতের রঙিন তরমুজ চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন আনোয়ার হোসেন। কচ্ছুপিয়া ইউনিয়নের নাপিদেরচর এলাকার এই কৃষক এবার ৪০ শতক জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। ফলনও হয়েছে চমৎকার। মাত্র ৭০ হাজার টাকা খরচে তিনি আড়াই লাখ টাকার তরমুজ বিক্রির প্রত্যাশা করছেন। গত বছর ২০ শতক জমিতে রঙিন তরমুজ চাষ করেছিলেন আনোয়ার।
এবার তা দ্বিগুণ করেছেন। সব মিলিয়ে তিনি প্রায় তিন হাজার তরমুজের চারা রোপণ করেছেন এবং খেতে সাত থেকে আট হাজার তরমুজ ধরেছে। তার খেতে চার ধরনের উচ্চফলনশীল তরমুজ রয়েছে। সূর্য ডিম জাতের তরমুজের বাইরের অংশ হলুদ ও ভেতরে লাল। রবি জাতের বাইরের রং সবুজ ও ভেতরে হলুদ। কিং সুগারের উপরিভাগ কালো ও ভেতরে লাল। আর বিগ বাইট জাতের তরমুজের বাইরের অংশ সবুজ ও ভেতরে লাল রঙের শ্বাস রয়েছে।
ফলন ভালো হওয়ায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার থেকে ব্যাপারীরা প্রতিনিয়ত তাকে ফোন করছেন। আনোয়ার জানান, তরমুজ তোলার উপযুক্ত সময় হলে তিনি নিজেই ক্রেতাদের জানাবেন। কিন্তু সাফল্যের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সারের তীব্র সংকট। আনোয়ার জানান, তার জমির জন্য প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ কেজি সার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তিনি পেয়েছেন মাত্র ১০০ কেজি। পরিমাণমতো সার দিতে না পারায় ফসলের যথাযথ পরিচর্যা ব্যাহত হচ্ছে বলে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।
তরমুজের পাশাপাশি চলতি মৌসুমে মোট ৮০ শতক জমিতে কৃষিকাজ করছেন আনোয়ার। তার মাঠে বরবটি, মিষ্টি কুমড়া, তিতা করলা, লাউসহ নানা ধরনের শাকসবজি রয়েছে। তাকে দেখে স্থানীয় অন্য কৃষকরাও আগামীতে মালচিং পদ্ধতিতে তরমুজ চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, রামুতে আগাম রবি ফসল বা অফসিজনে তরমুজ চাষ দিন দিন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
গত মৌসুমে উপজেলায় মোট ১০ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ হয়েছিল। এবার বিভিন্ন জাত আসায় আবাদি জমির পরিমাণ আরও বেড়েছে। বর্তমানে রামুতে কিং সুপার, গ্লোরি, মিন্টু সুপার, ব্ল্যাকবেরি, ব্ল্যাক সুইফট এবং সুগার বেবি জাতের তরমুজ চাষ হচ্ছে।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকরা দারুণ লাভবান হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। দেশের কৃষিজাত খাদ্য চাহিদায় অবদান রাখা আনোয়ার হোসেনের মতো প্রান্তিক কৃষকদের জন্য সরকারের তরফ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন