বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬,
স্মার্ট কৃষি

আগামীদিনের কৃষি কেমন হবে? রোগ ও পোকা দমনে আসছে যে বিপ্লব

কৃষি ডেস্ক

অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০১:২২ পিএম

আগামীদিনের কৃষি কেমন হবে? রোগ ও পোকা দমনে আসছে যে বিপ্লব

ফসলের রোগ, পোকা এবং আগাছা নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিন ধরে রাসায়নিক উপাদানের ওপর নির্ভরতা থাকলেও পরিবেশগত খরচ ও প্রতিরোধ ক্ষমতার চ্যালেঞ্জের মুখে সেই চিত্র বদলে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা এখন জীবাণুভিত্তিক সমাধান, উন্নত জাত এবং স্মার্ট প্রযুক্তির সমন্বয়ে কৃষির এক নতুন রূপরেখা তুলে ধরেছেন। যুক্তরাজ্যের কৃষি সংবাদমাধ্যম ‘ফার্মারস উইকলি’-এর একটি প্রতিবেদনে ফসলের সুরক্ষার এই ভবিষ্যৎ চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোগ নিয়ন্ত্রণে রাসায়নিকের ব্যবহার ধীরে ধীরে কমে আসছে। এর পরিবর্তে গুরুত্ব পাচ্ছে জীবাণুভিত্তিক উপাদান, উন্নত জাত এবং বিভিন্ন প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহার। রথামস্টেড রিসার্চের গবেষক ড. আইফি ওড্রিসকল জানিয়েছেন, বায়োফাঙ্গিসাইড বা জীবাণুভিত্তিক ছত্রাকনাশক নিয়ে ইতিমধ্যে কাজ চলছে। কিছু পণ্যে আশার আলো মিললেও মাঠপর্যায়ে এর কার্যকারিতা এখনো সব ক্ষেত্রে সমান নয়। বিশেষ করে সেপটোরিয়া রোগ নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনা দেখা গেলেও আরও পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।

গবেষণায় উদ্ভিদ নির্যাস, উপকারী জীবাণু এবং সালফারভিত্তিক উপাদান পরীক্ষা করা হচ্ছে। বিজ্ঞানীদের মতে, কোন পণ্য কীভাবে ব্যবহার করলে সেরা ফল পাওয়া যাবে, তা জানা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভুলভাবে মিশিয়ে প্রয়োগ করলে কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। তাই সঠিক প্রয়োগপদ্ধতি অত্যন্ত জরুরি।

ফসলের জাত উন্নয়নকেও ভবিষ্যতের একটি বড় অস্ত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। জিনগত তথ্য ব্যবহার করে রোগ প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন নতুন জাত তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি একই মাঠে বিভিন্ন প্রতিরোধক্ষমতা সম্পন্ন জাতের সমন্বয় ঘটিয়ে রোগের ঝুঁকি কমানোর কৌশল নিয়ে কাজ চলছে। যুক্তরাজ্যে গমক্ষেতে সেপটোরিয়া ও মরিচা রোগ শনাক্তে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত সহায়ক প্রযুক্তি পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ব্যবস্থা ল্যাবভিত্তিক বিশ্লেষণ দিলেও কিছু প্রযুক্তি মাঠেই দ্রুত ফল জানাতে সক্ষম।

পোশাকমর নিয়ন্ত্রণেও আসছে নতুন ধারণা। হারপার অ্যাডামস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক টম পোপ জানিয়েছেন, রোগবাহী এফিট প্রতিরোধী ফসল ইতিমধ্যে বাণিজ্যিক সাফল্য পেয়েছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট ক্ষতিকর পোকাকে লক্ষ্য করে কাজ করতে পারে এমন ‘আরএনএ ইন্টারফেরেন্স’ প্রযুক্তি নিয়েও কাজ চলছে। পরিবেশবান্ধব বায়োপেস্টিসাইডের ব্যবহার বাড়লেও এসব পণ্যের স্থায়িত্ব তুলনামূলক কম। তাই স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র, বায়োসেন্সর এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থার দিকে নজর বাড়ছে বিজ্ঞানীদের। একক কোনো সমাধানের বদলে একাধিক পদ্ধতির সমন্বয়ই সবচেয়ে কার্যকর পথ বলে মনে করছেন তারা।

আগাছা দমনে প্রচলিত হারবিসাইড বা আগাছানাশক এখনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্পট স্প্রে প্রযুক্তি, স্মার্ট সেন্সর এবং স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের ব্যবহার সামনের দিনগুলোতে বহুগুণ বেড়ে যাবে। সব মিলিয়ে ভবিষ্যতের ফসল সুরক্ষা প্রযুক্তি, জীববিজ্ঞান এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার এক সমন্বিত প্রয়াস হতে চলেছে।