আগস্ট ২৭, ২০২৬, ১২:০০ পিএম
কৃষিতে নিত্যনতুন উদ্ভাবন ও আধুনিক জাতের ফসলের বাণিজ্যিক চাষাবাদ দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে নীরব বিপ্লব ঘটাচ্ছে। প্রথাগত ফসলের বাইরে গিয়ে ব্যতিক্রমী ও উচ্চফলনশীল জাতের আবাদ করে অনেক উদ্যোক্তা তাক লাগিয়ে দিচ্ছেন। সম্প্রতি নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে এমনই এক সম্পূর্ণ অজানা হাইব্রিড জাতের আখ চাষ করে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন স্থানীয় এক কৃষি উদ্যোক্তা।
দেখতে অবিকল বাঁশের মতো এবং লম্বায় প্রায় বিশ ফুট পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়া এই বিশেষ জাতের আখ চাষে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন এনামুল ইসলাম মামুন নামের ওই কৃষক। গত সাত বছর ধরে বিভিন্ন কৃষি উদ্যোগের সাথে জড়িত থাকার পর তিনি এই ব্যতিক্রমী আখের সন্ধান পান এবং দিনাজপুর টিভি ডট কম-এর কাছে নিজের এই সাফল্যের কথা তুলে ধরেন।
বর্তমানে তার বাগানে প্রায় পঁয়ত্রিশ থেকে চল্লিশ হাজার আখ রয়েছে, যেগুলো একেকটি ঝোপে একশোরও বেশি সংখ্যায় জন্মায় এবং রোপণের মাত্র দশ মাসের মধ্যেই প্রায় আঠারো থেকে বিশ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে যায়। অন্যান্য সাধারণ আখের মতো এগুলোর কোনো নির্দিষ্ট মৌসুম নেই, বরং সারা বছর জুড়েই এই আখ থেকে ফলন পাওয়া সম্ভব। এছাড়া এই আখের ভেতরে ফাঁপা হয় না এবং দীর্ঘদিন ক্ষেতে রেখে দিলেও এর রসের মিষ্টতা একটুও কমে না বলে কৃষক জানিয়েছেন।
বাণিজ্যিকভাবে এই আখ অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় লেবু, আম বা পেঁপে বাগানের সীমানায় বেড়া হিসেবেও এর সফল চাষাবাদ করা যাচ্ছে। মাত্র এক শতক জমিতে প্রায় পাঁচশটি আখ উৎপাদন করা সম্ভব, যার প্রতিটি বাজারে একশ টাকা পর্যন্ত মূল্যে বিক্রি করা যেতে পারে। ব্যতিক্রমী এই হাইব্রিড আখের জাতটি দেশের অন্যান্য কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া গেলে তা গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন