বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬,
জাতীয় নিরাপত্তা সতর্কতা

অনুমতি ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরে ছবি ভিডিও ও তথ্য প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ৭, ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম

অনুমতি ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরে ছবি ভিডিও ও তথ্য প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা

চট্টগ্রাম বন্দর অভ্যন্তরে পূর্বানুমোদন ছাড়া যেকোনো ধরনের ছবি তোলা, ভিডিও ধারণ এবং তথ্য প্রকাশ ও প্রচারের ওপর আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিমের সই করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নির্দেশনার কথা সর্বসাধারণকে জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রধান সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার এবং জাতীয় অর্থনীতি, বৈদেশিক বাণিজ্য ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। 

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও জাতীয় নিরাপত্তা বিধিমালা অনুসরণ করে বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম বন্দর আইএসপিএস অনুসরণকারী আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বন্দর হিসেবে এর আগে জিরো অবজারভেশন অর্জনে সক্ষম হয়েছে। দেশের অন্যতম স্পর্শকাতর ‘ক’ শ্রেণির কি পয়েন্ট ইনস্টলেশন বা কেপিআইভুক্ত স্থাপনা হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সুরক্ষা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

বন্দর কর্তৃপক্ষের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন ২০২২-এর ১২ ধারা অনুযায়ী বন্দরের সুষ্ঠু পরিচালন কার্যক্রম নিশ্চিত করতে এবং অননুমোদিত সাধারণের প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে পুরো বন্দর সীমানা সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে বিবেচিত। এর পাশাপাশি অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট ১৯২৩-এর বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো সংরক্ষিত এলাকার সংবেদনশীল তথ্য, অবকাঠামোগত নকশা, আলোকচিত্র কিংবা যেকোনো উপাত্ত অনুমতি ছাড়া সংগ্রহ, প্রকাশ বা প্রচার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, গণমাধ্যম বা অন্য কোনো প্রচারমাধ্যমে বন্দরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নজরদারি সক্ষমতা, স্থাপনার বিন্যাস কিংবা সংবেদনশীল অপারেশনাল কার্যক্রম প্রকাশ করা সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত ও অগ্রহণযোগ্য বলে বিজ্ঞপ্তিতে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও জানানো হয়, অনুমোদন ছাড়া বন্দরের বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থাপনা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, প্রবেশ ও বহির্গমন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ নেটওয়ার্ক, জাহাজ ও কার্গো পরিচালন ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কোনো তথ্য সংগ্রহ, স্কেচ তৈরি, ফটোগ্রাফি বা ভিডিও ধারণ থেকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কঠোরভাবে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে কেপিআই সংরক্ষিত অঞ্চল ও নিরাপত্তা অবকাঠামোর ক্ষেত্রে যেকোনো অনুমতিবিহীন কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ বর্জন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই বাস্তবতায় বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও দর্শনার্থীসহ সবাইকে আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই আদেশ লঙ্ঘন করে অননুমোদিত তথ্য ও চিত্র প্রচারের মাধ্যমে বন্দরের নিরাপত্তা কোনোভাবে বিঘ্নিত হলে সংশ্লিষ্ট দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন, নিরাপত্তা বিধিমালা ও কর্তৃপক্ষের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।