অক্টোবর ৭, ২০২৬, ১১:১১ এএম
সারাদেশে চলমান হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এ পর্যন্ত দুই কোটি শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী এক মাসের মধ্যে আরও প্রায় ৩৫ লাখ শিশুকে এই টিকাদানের আওতায় আনার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। বুধবার হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত এই তথ্য নিশ্চিত করেন। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুনর্গঠনের নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বর্তমান সরকার দৃঢ়তার সাথে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচনী প্রচার ও দলীয় ইশতেহারে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল।
সেই ধারাবাহিকতায় নাগরিকদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধমূলক বিভিন্ন কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। নিয়মিত ও বিশেষ টিকাদান কর্মসূচিগুলো সক্রিয় রাখতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই মহতী উদ্যোগ বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র সরকার, গ্যাভি, ইউনিসেফ এবং বিশেষভাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনসহ মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, দায়িত্বভার গ্রহণের ১৫ দিন পর থেকেই স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সমন্বিত পদক্ষেপ শুরু হয়, যার দৃশ্যমান অগ্রগতি এখন স্পষ্ট। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিটি করপোরেশন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের যৌথ প্রচেষ্টায় দেশজুড়ে দুই কোটি শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। দুই কোটি শিশুকে টিকা দেওয়ার পরও কার্যক্রম থেমে থাকবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিটি শিশুর জীবন অত্যন্ত মূল্যবান এবং একজন শিশুও যেন এই সুরক্ষা বলয় থেকে বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বর্তমান ধাপটিকে বিশেষ মপ-আপ ক্যাম্পেইন হিসেবে পরিচালনা করা হচ্ছে। এই বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের দুর্গম অঞ্চলের শিশু, প্রতিবন্ধী শিশু এবং কোনো কারণে আগের নিয়মিত ধাপগুলো থেকে বাদ পড়া শিশুদের ঘরে ঘরে গিয়ে খুঁজে বের করে টিকা দেওয়া হবে। প্রতিটি শিশুর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ জীবন ও সুস্থতা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের একমাত্র লক্ষ্য।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এটি জনগণের প্রতি সরকারের দৃঢ় সামাজিক অঙ্গীকার। এই প্রতিশ্রুতি পূরণে আগামী এক মাসের মধ্যেই অতিরিক্ত ৩৫ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা পুরোপুরি সম্ভব হবে বলে সরকার আশাবাদী। কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে দেশি ও আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থাগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, সবার সমন্বিত অংশগ্রহণ ছাড়া এত বড় লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হতো না। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র সরকার, আন্তর্জাতিক জোট গ্যাভি ও ইউনিসেফ শুরু থেকেই কারিগরি ও সার্বিক সহযোগিতা জুগিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি সিটি করপোরেশন ও তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করছেন।
দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল ও প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কাছেও টিকার এই সুফল পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। যেকোনো প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে সরকার জনস্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যাবে জানিয়ে তিনি বলেন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সব অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিটি অঙ্গীকার ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করা হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন