অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০১:০৩ পিএম
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে মাত্র ১০ শতাংশ জমিতে ১২ ধরনের ফসল ফলিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন কৃষক লুৎফুর রহমান।
একপাশে পুঁইশাক, কলমি শাক, লাল শাক, অন্যপাশে কদুয়া, চিচিঙ্গা, গাজর, বেগুন আর পেঁপে। এই সবুজের নিচেই প্রায় এক হাজার ২০০ বস্তায় বেড়ে উঠছে আদা। আদার ঠিক ওপরের অংশেই মাচা তৈরি করে লাউ চাষ করছেন তিনি। অর্থাৎ একই জায়গার নিচে ও ওপরে দুই দিকেই চলছে আবাদ।
দশ শতাংশ জমির মধ্যে ১০ থেকে ১২ প্রকার শাকসবজি আবাদ করেন বলে জানান লুৎফুর। নিজের পরিবারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি তিনি আর্থিকভাবেও বেশ লাভবান হচ্ছেন।
মাটিতে পানি জমে পচন ধরার কারণে আদা চাষে অনেক সময় লোকসান হয়। অনেক ওষুধ দিয়েও তা সারানো কঠিন হয়ে পড়ে। তাই বস্তায় মাটি শোধন করে আদা লাগিয়েছেন তিনি। মাঝে মাঝে শুধু স্প্রে করতে হয়, বাড়তি কোনো পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না বলে জানান এই কৃষক। নিজের পরিবারের জন্য নিরাপদ সবজি উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করলেও পরে কৃষি বিভাগের পরামর্শে এই মিশ্র চাষকে আরও পরিকল্পিত রূপ দেন লুৎফুর।
স্থানীয়রা জানান, বস্তায় আদা চাষের এই অভিনব পদ্ধতি তাদের জন্য বিরাট অনুপ্রেরণার বিষয়। এই পদ্ধতিতে চাষ করলে ভালো ফলাফল পাওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন তারা। কৃষি বিভাগের মতে, পরিকল্পিত মিশ্র চাষে অল্প জায়গা থেকেও বিভিন্ন ধরনের ফলন পাওয়া সম্ভব। এতে কৃষকরা পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও লাভবান হচ্ছেন। বাড়ির আশপাশের অনাবাদি জায়গা ব্যবহার করে সবজি চাষাবাদ করার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছে তারা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন