ডিসেম্বর ৪, ২০২৫, ১১:৪৫ এএম
বগুড়ার গ্রামীণ কৃষি-জীবনযাত্রায় বা লাইফস্টাইলে এখন পরিবর্তনের ছোঁয়া। অধিক লাভ এবং চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেলার কৃষকরা এখন ‘মিশ্র ফসল’ বা ‘রিলে ক্রপ’ পদ্ধতিতে সবজি চাষে অত্যন্ত আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। শীতের আগাম সবজি হিসেবে তারা এখন একই জমিতে কলার সঙ্গে ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করছেন।
বগুড়া সদর, শিবগঞ্জ, গাবতলী ও শাজাহানপুর উপজেলার গ্রামীণ জনপদে এখন সবুজের সমারোহ। রাস্তার ধারের ক্ষেতগুলোতে দেখা যাচ্ছে কলাগাছের গোড়ায় সগৌরবে ফুটে আছে বাঁধাকপি কিংবা ফুলকপি। কোথাও আবার মুলা বা আলুর চাষও হচ্ছে।
কৃষকদের সাফল্যের গল্প: সাতশিমুলিয়া আকনপাড়া গ্রামের কৃষক আজমল জামিল রহমান জানান, তিনি গত তিন বছর ধরে এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন। এবার তিনি একই জমিতে কলা, ফুলকপি এবং মিষ্টি কুমড়ার চাষ করেছেন। তিনি বলেন, “শুধু কলা বিক্রি করেই আমি দেড় লাখ টাকা লাভ করেছি। এখন ফুলকপি বিক্রির অপেক্ষায় আছি। আশা করছি এতেও ভালো লাভ হবে।”
একই এলাকার কৃষক বেলাল হোসেন জানান, তাদের এলাকায় এখন তিন-চতুর্থাংশ কলার ক্ষেতেই সাথী ফসল হিসেবে কপি, শিম, মুলা বা আলু চাষ হচ্ছে। লাহেড়িপাড়ার কৃষক আজাদুল ইসলামও জানালেন, তিনি এবার গত বছরের চেয়ে মিশ্র চাষের পরিধি বাড়িয়েছেন।
কর্মকর্তারা যা বলছেন: শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান জানান, লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা এই পদ্ধতিতে ঝুঁকছেন। গত বছরের তুলনায় এবার মিশ্র আবাদের পরিমাণ বেড়েছে।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সোহেল মো. সামসুদ্দিন ফিরোজ জানান, “বগুড়ায় মিশ্র সবজি আবাদে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। গত বছর এ ধরনের জমির পরিমাণ ৭০০ হেক্টরের মতো ছিল, এবার তা ১০০০ হেক্টরের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে বলে আশা করছি।”
লাহেড়িপাড়া এলাকার উপসহকারী কৃষি প্রকৌশলী রেজাউল কিবরিয়া জানান, তারা কৃষকদের এই লাভজনক পদ্ধতিতে চাষাবাদে নিয়মিত উদ্বুদ্ধ করছেন। ফলে কৃষকরা এখন কলার সঙ্গে পেঁয়াজ, মিষ্টি কুমড়া ও আলুও চাষ করছেন।
একই জমিতে দুই বা ততোধিক ফসল চাষ একদিকে যেমন কৃষকদের আর্থিক সচ্ছলতা এনে দিচ্ছে, অন্যদিকে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন