বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬,
মেসির বিদায়

মেসির গলায় বিদায়ের হাহাকার এই সবুজ গালিচা ছেড়ে যেতে ইচ্ছে নেই

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৭, ২০২৬, ১০:০১ এএম

মেসির গলায় বিদায়ের হাহাকার এই সবুজ গালিচা ছেড়ে যেতে ইচ্ছে নেই

ছবি: সংগৃহীত

মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটল অশ্রুসিক্ত এক বিদায়ী ভাষণের মধ্য দিয়ে। বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জার্সিতে জীবনের শেষ ম্যাচটি খেলে বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে দুই দশকেরও বেশি সময়ের আবেগ আর স্মৃতির ঝাঁপি খুলে দেন বিশ্বকাপজয়ী এই মহাতারকা। স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজারো সমর্থকের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি জানান, এমন ক্ষণে মনের কথা প্রকাশ করা তাঁর জন্য ভীষণ কঠিন। মাথার ভেতর অসংখ্য স্মৃতি ভিড় করছে উল্লেখ করে শুরুতেই বাবার অবদানের কথা স্মরণ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করতে পারাকে জীবনের সেরা প্রাপ্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

ক্যারিয়ারের কঠিন দিনগুলোর কথাও অকপটে তুলে ধরেন এই কিংবদন্তি। দল যখন চরম সংকটে বা ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়েছে, তখনো হাল ছেড়ে দেননি বলে জানান মেসি। তিনি বলেন, সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতেও সর্বোচ্চ নিংড়ে দিয়েছেন এবং কোনোদিন এই দলের প্রতি নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে যাননি। আকাশী-নীল জার্সির সম্মানে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছেন। তবে এই জার্সিতে আর কখনো মাঠে নামতে না পারার বাস্তবতা মেনে নেওয়া তাঁর জন্য প্রচণ্ড কষ্টের। মেসি স্পষ্ট করেন, তাঁর ইচ্ছে ছিল এই পরিবেশ ও দলের সঙ্গে আরও লম্বা সময় থেকে যাওয়ার। কিন্তু ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে নিজের সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তকেই বাস্তবসম্মত ও সঠিক বলে মনে করছেন তিনি।

গত বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা স্মরণ করতে গিয়ে মেসি জানান, সেই আসর শারীরিক ও মানসিক উভয় দিক থেকেই তাঁকে অনেকটাই নিঃশেষ করে দিয়েছিল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচটির প্রভাব কাটিয়ে দল যে শেষ পর্যন্ত লড়াই থামায়নি, সে কথাও তুলে ধরেন তিনি। সতীর্থদের প্রতি অসীম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মেসি জানান, তাঁরা তাঁর শৈশবের স্বপ্নগুলো বাস্তবে রূপ দিতে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা ও ফিনালিসিমার প্রতিটি শিরোপা জয়ের আনন্দ সতীর্থদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার মুহূর্তগুলোকে জীবনের সেরা স্মৃতি আখ্যা দেন তিনি। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, দলের প্রত্যেকেই দেশের জন্য মাঠে জীবন বাজি রাখতে প্রস্তুত।

সমর্থকদের গভীর ভালোবাসার কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত মেসি জানান, দেশের যেকোনো প্রান্তে কিংবা বিদেশের মাঠে খেললেও ভক্তদের উপস্থিতির কারণে কখনো পরবাসী মনে হয়নি। সবসময় ঘরের মাঠে খেলার অনুভূতিই পেয়েছেন। বিশ্বকাপ জয়ের পর মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে ফিরে আসার দিনটিকে নিজের ফুটবল জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত করেন মেসি। সেই দিনের ভিডিও দেখলে এখনো তাঁর চোখ ভিজে আসে বলে উল্লেখ করেন। তবে একই মাঠে এবার দাঁড়িয়ে জাতীয় দলকে বিদায় জানানোর ক্ষণটিকে তিনি ক্যারিয়ারের অন্যতম বেদনাবিধুর দিন হিসেবে মেনে নেন। মাঠের খেলা ছাড়লেও দলের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন এই ফুটবল জাদুকর। 

ভবিষ্যতে যারা জাতীয় দলে যুক্ত হবে, বাইরে থেকে তাদের সমর্থন জুগিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।আর্জেন্টিনার অভাবনীয় সাফল্যের মূল রহস্য হিসেবে দলীয় ঐক্যকে সামনে আনেন মেসি। আগামী দিনে দল যাতে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেও সমর্থকদের অটুট সমর্থন পায়, সেই আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে যারা দলের ব্যর্থতা দেখার অপেক্ষায় মুখিয়ে থাকে, তাদের হতাশ করে দলের অভ্যন্তরীণ সংহতি ধরে রাখার তাগিদ দেন। বক্তব্যের শেষভাগে নিজের সব আবেগ ঢেলে দিয়ে মেসি জানান, এই মাঠ, সবুজ ঘাস ও জাতীয় দলের জার্সি ছেড়ে যেতে তাঁর একটুও মন চাইছে না। আর্জেন্টাইন হিসেবে জন্ম নিতে পেরে তিনি স্রষ্টার কাছে চিরকৃতজ্ঞ এবং এই অনুভূতিকে তিনি নিজের পরম অহংকার বলে ঘোষণা করেন।