বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬,
সোনালি অতীতের স্মৃতি

ব্যস্ততার মাঝে পুরোনো আড্ডার দিনগুলো ফিরে পেতে চান অভিনেতা মোশাররফ করিম

বিনোদন ডেস্ক

অক্টোবর ৭, ২০২৬, ১১:২০ এএম

ব্যস্ততার মাঝে পুরোনো আড্ডার দিনগুলো ফিরে পেতে চান অভিনেতা মোশাররফ করিম

বর্তমান সময়ে টেলিভিশন নাটক, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এবং চলচ্চিত্রের অন্যতম ব্যস্ত ও জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম। শুধু বাংলাদেশেই নয়, ওপার বাংলার চলচ্চিত্রেও তিনি নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। তবে এত খ্যাতি ও সাফল্যের মাঝেও তিনি মাঝেমধ্যেই ফিরে যান পুরোনো দিনগুলোতে। সম্প্রতি ডেইলি স্টার কার্যালয়ে এক অনানুষ্ঠানিক আলাপে নিজের সোনালি অতীতের স্মৃতিচারণ করেন এই তারকা। তাঁর ভাবনায় উঠে আসে থিয়েটার, বন্ধুদের আড্ডা আর ফেলে আসা সেই দিনগুলোর কথা। মোশাররফ করিম বলেন, ‘আমি আড্ডা দিতে খুব পছন্দ করি। থিয়েটার ক্যারিয়ারের শুরুতে আড্ডায় প্রচুর সময় কাটিয়েছি। 

এখনো সুযোগ পেলে সময় বের করার চেষ্টা করি। কিন্তু আগের সেই আড্ডায় এখন আর প্রাণ নেই। আমার মনে হয়, সেই সুন্দর মুহূর্তগুলো আর কখনোই ফিরে পাব না।’ পুরোনো আড্ডার কথা মনে পড়লেই একটি নাম তাঁর বারবার মনে পড়ে। তিনি হলেন প্রয়াত জনপ্রিয় ছড়াকার ওবায়দুল গনি চন্দন। বন্ধু চন্দনকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আড্ডার স্মৃতির কথা ভাবলেই চন্দনের কথা মনে পড়ে। আমি তাকে মিস করি। চন্দনই আমাদের আড্ডাকে প্রাণবন্ত রাখত। সেই জমায়েতগুলোর এবং একসঙ্গে কাটানো পথচলার শত শত স্মৃতি আমাদের আছে।’ তাদের সেই আড্ডায় আরও থাকতেন অভিনেতা ফজলুল কবির তুহিন ও গীতিকার বাকিউল আলম। মোশাররফ করিম আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা অনেক বছর একসঙ্গে আড্ডায় কাটিয়েছি। জীবনে কখনোই ভাবিনি এত ব্যস্ত হয়ে পড়ব। আর চন্দন এত তাড়াতাড়ি এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবে, সেটাও কেউ কল্পনা করতে পারেনি।’ অতীতের দিকে ফিরে তাকালে তাঁর মনে হয়, ওই দিনগুলোই ছিল জীবনের আসল অর্থ। টেলিভিশন ও ওটিটিতে তারকা হওয়ার আগে মোশাররফ করিম ছিলেন পুরোপুরি মঞ্চের মানুষ। তিন দশক আগে তারিক আনাম খানের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত নাট্যদলের নাম ‘নাট্যকেন্দ্র’। 

এই দলের অন্যতম প্রধান সদস্য তিনি। সে সময়ের সংগ্রামের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, তখন তিনি খিলগাঁওয়ে থাকতেন। খিলগাঁও থেকে বেইলি রোডে থিয়েটার ও দলের কার্যালয়ে মহড়ার জন্য তিনি হেঁটেই যাতায়াত করতেন। তবে অতীতের সব স্মৃতিই কেবল আবেগের নয়, কিছু ঘটনা বেশ মজার। অভিনয়জীবনের শুরুর দিকের একটি ঘটনার কথা স্মরণ করেন তিনি। একটি নাটকের জন্য তাঁকে ২০ হাজার টাকা পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘তখনকার দিনে ২০ হাজার টাকা অনেক বড় অঙ্ক। টাকাটা হাতে পাওয়ার পর গুনে দেখি সেখানে ৪০ হাজার টাকা আছে।’ তিনি আবারও গোনেন। কিন্তু ফলাফল একই। মোশাররফ করিম বলেন, ‘আমি ভয় পেয়ে যাই। যে আমাকে টাকা দিয়েছিল, তাকে খুঁজতে শুরু করি; আর সে-ও আমাকে খুঁজছিল। পরে বাড়তি টাকাটা তাকে ফেরত দিই এবং অবশেষে স্বস্তি পাই।’ মঞ্চ ও পর্দার বাইরে মোশাররফ করিম বই পড়ে সময় কাটাতে ভালোবাসেন। তিনি প্রচুর কথাসাহিত্য ও উপন্যাস পড়েন। মাঝেমধ্যে নিজেও কবিতা লেখেন। তাঁর কথায়, ‘আমি কবিতা পড়তে ভালোবাসি। গল্প ও উপন্যাসও আমার খুব পছন্দ। পড়ার জন্য সময় বের করার চেষ্টা করি। 

এখন আমি মিহির সেনগুপ্তের সিদ্ধিগঞ্জের মোকাম পড়ছি এবং দারুণ উপভোগ করছি।’ ঔপন্যাসিক রশীদ করীমের ‘উত্তম পুরুষ’ উপন্যাসের কথাও আনন্দের সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। শওকত আলীর উপন্যাসও তাঁর প্রিয়। কয়েক বছর আগে ভারতের প্রখ্যাত কবি জয় গোস্বামী মোশাররফ করিমকে নিয়ে একটি কবিতা লিখেছিলেন, যা পরে বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জয় গোস্বামী আমার অন্যতম প্রিয় কবি। আমি তাঁর কবিতার বিশাল ভক্ত। তাঁর মতো মাপের একজন কবি যখন আমাকে নিয়ে কবিতা লিখলেন, আমি একই সঙ্গে অবাক ও গভীরভাবে আবেগাপ্লুত হয়েছিলাম। এটা আমার জন্য অনেক বড় একটি সম্মান।’ তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার