মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬,

কো-পাইলটের বিমান ছিনতাই চেষ্টা ছিল বিকল্প হামলার ছক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ৬, ২০২৬, ০৭:২৫ পিএম

কো-পাইলটের বিমান ছিনতাই চেষ্টা ছিল বিকল্প হামলার ছক

ছবি: সংগৃহীত

অধিকৃত গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও হত্যাযজ্ঞের প্রতিশোধ নিতেই ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে ইসরায়েলে সরাসরি আঘাত হানার ছক কষেছিলেন ওমানি কো-পাইলট হামাম আল-হাম্মামি। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এই পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে তথ্য উঠে এসেছে। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত সপ্তাহে দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটের নিয়ন্ত্রণ মাঝআকাশে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন কো-পাইলট হাম্মামি। 

অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিমানটির প্রধান বৈমানিক ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করে অচেতন করে ফেলেন এবং একপর্যায়ে ককপিটের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চালান। তবে আহত ক্যাপ্টেন তাৎক্ষণিকভাবে ককপিটের সুরক্ষিত দরজা খুলে ফেলতে সক্ষম হলে পরিস্থিতি বদলে যায়। ককপিটের দরজা খোলার সাথে সাথে কয়েকজন সতর্ক যাত্রী দ্রুত এগিয়ে এসে হাম্মামিকে শক্তভাবে জাপটে ধরে প্রতিহত করেন। পরবর্তীতে বিমানের অন্য পাইলটরা তাৎক্ষণিকভাবে ফ্লাইট পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ নেন এবং উড়োজাহাজটিকে নিরাপদে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করাতে সক্ষম হন।

জিজ্ঞাসাবাদে হাম্মামি জানান যে তিনি গাজায় ঘটে যাওয়া হত্যাযজ্ঞের প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলেন এবং আত্মঘাতী হামলার মাধ্যমে মৃত্যুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন। তার মূল ছক ছিল বিমানটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় উড়িয়ে নিয়ে নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমায় পৌঁছানো। পরবর্তীতে উপযুক্ত সুযোগ তৈরি করে উড়োজাহাজের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজের কবজায় নিয়ে তেল আবিবের বিমানবন্দর স্থাপনা কিংবা সেখানে রানওয়েতে অবস্থানরত অন্য কোনো বিমানের ওপর সেটি আছড়ে ফেলা।

মূল লক্ষ্য পূরণ অসম্ভব হলে তিনি একটি বিকল্প পরিকল্পনা বা প্ল্যান বি নির্ধারণ করে রেখেছিলেন বলে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এই বিকল্প ছক অনুযায়ী জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিকে বিকল্প লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন তিনি। উল্লেখ্য যে ওই বিমানঘাঁটিতে মার্কিন যুদ্ধবিমান ও বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনাসদস্য অবস্থান করছেন। তবে এই বিকল্প পরিকল্পনাটি নিশ্চিত কোনো লক্ষ্য ছিল কি না, তা এখনো তদন্তের আওতায় রয়েছে।

কো-পাইলট হাম্মামি কোনো আন্তর্জাতিক সশস্ত্র জঙ্গি সংগঠনের নির্দেশে বা প্রত্যক্ষ যোগাযোগে এই আত্মঘাতী অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন কি না, সে বিষয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও তদন্তকারীরা এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে ফ্লাইদুবাইয়ের ওই ফ্লাইটে কর্মরত অন্য কোনো ক্রু সদস্য বা কেবিন কর্মী এই সহিংস ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত ছিলেন এমন কোনো প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ তদন্তে পাওয়া যায়নি।