মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬,
মেসির শেষ ম্যাচ

শেষ বাঁশির ওপারে মেসি, এপারে কোটি হৃদয়ের কান্না

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৬, ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম

শেষ বাঁশির ওপারে মেসি, এপারে কোটি হৃদয়ের কান্না

ছবি: সংগৃহীত

আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের আকাশী-নীল জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামতে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে আনুষ্ঠানিক অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন এই অধিনায়ক। তবে দেশের মাটিতে প্রিয় সমর্থকদের সামনে শেষবারের মতো জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। বুধবার (০৭ অক্টোবর) ভোরে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচটিই হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনার হয়ে তার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।

দুই দশকেরও বেশি সময়ের এক দীর্ঘ পথচলা শেষ হচ্ছে। রোজারিওর সাধারণ এক পরিবার থেকে উঠে এসে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকায় পরিণত হন মেসি। তবে জাতীয় দলের হয়ে তার এই দীর্ঘ যাত্রা পুরোপুরি মসৃণ ছিল না। ক্লাবের হয়ে একের পর এক শিরোপা জিতলেও দেশের হয়ে বড় আসরের ফাইনালে পরাজয় এবং তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল তাকে। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে জার্মানির কাছে পরাজয়ের পর কোপা আমেরিকার একাধিক ফাইনালে ব্যর্থ হয়ে ২০১৬ সালে হতাশা থেকে অবসরের ঘোষণাও দিয়েছিলেন তিনি।

পরবর্তীতে মাঠে ফিরেই পুরো দৃশ্যপট বদলে দেন তিনি। ২০২১ সালে মারাকানায় কোপা আমেরিকা জয়ের মাধ্যমে আর্জেন্টিনার শিরোপা খরা কাটান মেসি। এরপর ২০২২ সালে ফিনালিসিমা জয়ের পর একই বছর কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় তার দল। এর মাধ্যমে নিজের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে পূর্ণতা দেন তিনি।

বেনিনের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটিতে মাঠে নামার মধ্য দিয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে তার ম্যাচের সংখ্যা দাঁড়াবে ২০৮টিতে, যা আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে দেশের হয়ে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১২৫টি গোলের রেকর্ডও তার দখলে। এছাড়া বিশ্বকাপের মঞ্চে তার রেকর্ড অনন্য। বিশ্বকাপে ২১টি গোল ও ১২টি অ্যাসিস্ট মিলিয়ে মোট ৩৩টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন তিনি। পাশাপাশি ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনালের শুরুর একাদশে মাঠে নামার অনন্য কীর্তিও মেসির ঝুলিতে।

মাঠের বাইরেও মেসির অবদানকে অনন্য আখ্যা দিয়েছেন দলের কোচ। মেসির বিদায়কে সামনে রেখে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি জানিয়েছেন যে মেসি এমন কিছু দৃষ্টান্ত রেখে যাচ্ছেন যার কোনো তুলনা চলে না। স্কালোনির মতে, মেসির মাহাত্ম্য কেবল পায়ের জাদুতে সীমাবদ্ধ নয়; সবার আগে অনুশীলনে আসা, সবার শেষে মাঠ ছাড়া, প্রতিটি ম্যাচকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া এবং সতীর্থদের পাশে থাকার মতো আচরণই তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছে। স্কালোনি আরও উল্লেখ করেন যে মাঠে মেসির অভাব পূরণ করা অসম্ভব এবং তার অনুপস্থিতি হবে আর্জেন্টিনা ফুটবলের জন্য সবচেয়ে বড় এক শূন্যতা।