অক্টোবর ৬, ২০২৬, ০৮:৫১ পিএম
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত দেশের একমাত্র কয়লাভিত্তিক ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। গত দুই দিনে কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিট এবং ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার তৃতীয় ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। পার্বতীপুর উপজেলাসহ উত্তরাঞ্চলের আট জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং বিভিন্ন এলাকায় তীব্র লো-ভোল্টেজ দেখা দিয়েছে।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, সোমবার ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে প্রথম ইউনিট এবং মঙ্গলবার ভোর ৫টা ৫ মিনিটে কেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পড়ে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউনিট দুটির যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হারবিন ইন্টারন্যাশনালের একদল প্রকৌশলী ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। ইউনিট দুটি কবে নাগাদ পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে পারবে, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্ধ হওয়া তৃতীয় ইউনিট থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৬০ থেকে ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হতো। এই ইউনিটটি সচল রাখতে দৈনিক আড়াই হাজার মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন হতো। অন্যদিকে, ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিট থেকে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হতো এবং এটি চালাতে দৈনিক ৮০০ থেকে ৯০০ মেট্রিক টন কয়লা লাগত।
কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিটটি ওভারহোলিং বা সংস্কার কাজের জন্য ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে প্রায় ছয় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংস্কারাধীন এই দ্বিতীয় ইউনিটটি চলতি অক্টোবর মাসের যেকোনো সময় পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন