অক্টোবর ৬, ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম
দেশের অর্থনৈতিক সম্পদ সীমিত হলেও শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার কখনো কার্পণ্য করবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষকদের সামগ্রিক কল্যাণ ও ন্যায্য দাবিগুলো সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের পেশাগত স্বাধীনতা ও সামাজিক মর্যাদা সমুন্নত রাখার ওপরও জোর দেন তিনি। মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) নরসিংদীর পলাশ উপজেলা মাল্টিপারপাস অডিটোরিয়ামে জাতীয় শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণের দাবির প্রতি নীতিগত সমর্থন প্রকাশ করেন মন্ত্রী। ড. আবদুল মঈন খান জানান, তিনি নিজেও শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, ফলে শিক্ষকদের দাবির যৌক্তিকতার সাথে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সম্পূর্ণ একমত। তবে চাকরি জাতীয়করণ করা হলে শিক্ষকরা সরাসরি সরকারি কর্মচারীতে পরিণত হবেন এবং এর সাথে নিয়মিত বদলি ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন নিয়মকানুন যুক্ত হবে বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। এই কারণে জাতীয়করণের মতো সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ও বাস্তবতাও শিক্ষকদের গভীরভাবে বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির অতীত ধারাবাহিকতা সভায় তুলে ধরেন তিনি। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয় বেসরকারি উদ্যোগে ও সমাজের দানশীল ব্যক্তিদের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত হতো বলে জানান মন্ত্রী। পরবর্তীতে শিক্ষকদের বেতন-ভাতায় সরকারি অনুদান পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হয়েছে। ১৯৮০ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতনের ৫০ শতাংশ সরকারি কোষাগার থেকে দেওয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেন। এরপর ১৯৯১ সালে তৎকালীন সরকার শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নতুন শিক্ষা কমিশন গঠন করে এবং তাদের সুপারিশ অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি করে। পরবর্তীতে ২০০১ সালে বেসরকারি শিক্ষকদের শতভাগ বেতন সরকারি সহায়তার আওতায় আনা হয়, যার সুফল এখন দেশের বিপুলসংখ্যক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ভোগ করছেন।
নারী শিক্ষার অগ্রগতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, প্রায় ৩৫ বছর আগে প্রথমে অষ্টম শ্রেণি এবং পরবর্তীতে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রীদের বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা হয়েছিল। ওই নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণেই বর্তমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রী ও নারী শিক্ষকদের অংশগ্রহণ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। শিক্ষকদের দেশ গঠনের কারিগর আখ্যা দিয়ে ড. মঈন খান বলেন যে একজন শিক্ষকের ভূমিকা সাধারণ সরকারি কর্মকর্তার চেয়েও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি উল্লেখ করেন, একটি রাষ্ট্রের আসল শক্তি কেবল সামরিক সক্ষমতা বা অর্থবিত্তে নয়, বরং উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজের ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশকে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যেতে হলে শিক্ষাব্যবস্থায় সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি। পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খান ফাউন্ডেশন ও দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির চেয়ারপারসন আইনজীবী রোখসানা খন্দকার।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন