অক্টোবর ৬, ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম
সারাদেশে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে থাকায় দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা সক্ষমতা বাড়ানো এবং রোগীর চাপ সামাল দিতে বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে স্থাপিত বিশেষায়িত ফিল্ড হাসপাতালটি পুনরায় চালুর বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনায় রেখেছে সরকার।
একই সঙ্গে ঢাকা মেডিকেলের চাপ কমাতে এবং রোগীদের ভোগান্তি ছাড়া নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে কিছু রোগীকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভায় এই জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত রোববার বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত এক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে দেশের সামগ্রিক চিকিৎসাব্যবস্থা সচল রাখতে মাঠপর্যায়ে একাধিক জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. নুরুল ইসলাম জানান, সভায় রাজধানীসহ দেশের সব হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য সংরক্ষিত শয্যাসংখ্যা দ্রুত বাড়ানোর স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেন যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে বার্ন ইউনিটে কিছু রোগী সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে এবং ঢাকা মেডিকেলে স্থাপিত ফিল্ড হাসপাতালটি চালুর বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। ঢাকার অন্যান্য বিশেষায়িত কেন্দ্রগুলোতেও চিকিৎসাসেবার পরিধি পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে।
অধ্যাপক ডা. নুরুল ইসলাম আরও জানান, ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় প্রধান ভূমিকা রাখা মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে তাদের শয্যা সক্ষমতা আরও বাড়ানোর জন্য বলা হয়েছে। রাজধানীর বাইরে থেকে আসা রোগীদের চাপ কমাতে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিবর্তে কুর্মিটোলা মাল্টিডিসিপ্লিনারি হাসপাতালকে বাইরের জেলার ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, যেহেতু ঢাকায় রোগীর তীব্রতা সবচেয়ে বেশি, সে কারণে রাজধানীর প্রধান প্রধান সরকারি হাসপাতালের পরিচালকদের দ্রুত শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধির মৌখিক ও প্রশাসনিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংকটের চরম মুহূর্তেও সরকারি হাসপাতাল থেকে কোনো রোগীকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় না, তবে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে গেলে মেঝে ও বারান্দায় চরম ভোগান্তি তৈরি হয়।
সেই অতিরিক্ত ভিড় ও রোগীদের অবর্ণনীয় কষ্ট লাঘব করতেই ঢাকার বাইরের জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকেও পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রাখার জন্য কড়া তাগিদ দেওয়া হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হালনাগাদ তথ্যে জানা গেছে, চলতি বছরের ০১ জানুয়ারি থেকে ০৬ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৯০ হাজার ৩৫৬ জন। এই সময়ে মশাবাহিত রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২৮১ জন রোগী। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষ রয়েছেন ১৩২ জন এবং নারী ১৪৫ জন। তবে আক্রান্তের পরিসংখ্যানে পুরুষদের সংখ্যা বেশি, যেখানে মোট আক্রান্তের ৬২ দশমিক ৩ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক ৭ শতাংশ নারী।
চলতি বছর ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে রাজধানী ও আশপাশের জেলা নিয়ে গঠিত ঢাকা বিভাগে, যেখানে সর্বোচ্চ ১২৭ জন মারা গেছেন। এছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যে খুলনা বিভাগে ৫৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫ জন, বরিশাল বিভাগে ২৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৯ জন, রংপুর বিভাগে ৬ জন এবং সিলেট বিভাগে ২ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন