মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬,

বিজেপিকে ধ্বংস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি রাহুল গান্ধীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ৬, ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম

বিজেপিকে ধ্বংস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি রাহুল গান্ধীর

ছবি: সংগৃহীত

ভারতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোট চুরির গুরুতর অভিযোগ তুলে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির উদ্দেশে কঠোর রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দেশটির লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) সকালে দিল্লির নির্বাচন সদন সংলগ্ন আকাশবাণী কার্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে বিরোধী শিবির কেবল ক্ষমতাসীনদের মোকাবিলাই করছে না, বরং তাদের পুরোপুরি রাজনৈতিকভাবে পরাস্ত ও ধ্বংস করে দেবে। ভারতের গণতন্ত্র রক্ষা ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের দাবিতে এদিন বিরোধী জোট ‍‍`ইন্ডিয়া‍‍`র প্রায় তিন শতাধিক সাংসদ নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দফায় দফায় ব্যারিকেড তৈরি করে নিরাপত্তা বাহিনী। কর্মসূচিতে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে এবং সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, ডেরেক ও‍‍`ব্রায়েন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, এনসিপির সুপ্রিয়া সুলে, কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা পি চিদম্বরম এবং আরজেডির মনোজ ঝাসহ শীর্ষ নেতারা। নির্বাচন সদনের সামান্য দূরে নীতি আয়োগ ভবনের সামনে পুলিশ বিরোধী সাংসদদের পথ আটকে দিলে নেতারা সড়কেই অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। সে সময় প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বেশ কয়েকজন নেতাকে পুলিশ সাময়িকভাবে আটক করলেও পরবর্তীতে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পুলিশি বাধা ঠেলে আকাশবাণী চত্বর দিয়ে সামনে এগোনোর চেষ্টা করেন রাহুল গান্ধী। গণমাধ্যমের সামনে বক্তব্য প্রদানকালে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন যে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রধান মোহন ভাগবত এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার যৌথভাবে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও নির্বাচনী ব্যবস্থাকে নস্যাৎ করেছেন। তিনি দাবি করেন, ভোটাধিকার হরণের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে এর জন্য একদিন আইনি ও রাজনৈতিক জবাবদিহিতার আওতায় আসতে হবে। মাত্র ৫০ গজ দূরে অবস্থান করা সত্ত্বেও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ৩০০ জন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ভীত আচরণ করছেন বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে বলেন যে স্বাধীনতার পর অর্জিত সার্বজনীন ভোটাধিকার হরণ করে দেশে কার্যত একনায়কতন্ত্র কায়েমের অপচেষ্টা চলছে। তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে সরকারের ইচ্ছার বাস্তবায়নকারী হিসেবে আখ্যায়িত করে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।

তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ তোলেন যে পশ্চিমবঙ্গে অন্যায়ভাবে প্রায় ৯০ লাখ মানুষকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে লাখ লাখ আবেদন ঝুলে থাকার তথ্য তুলে ধরে তিনি নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ নেতৃত্বের গ্রেপ্তার দাবি করেন। সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব পূর্ববর্তী ২০১৭, ২০১৯, ২০২২ ও ২০২৪ সালের বিভিন্ন নির্বাচনের অনিয়মের ধারাবাহিকতা টেনে বর্তমান কমিশনের পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন।

তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা