মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬,
ইলিশ রক্ষা অভিযান

বরাদ্দ কমে যাওয়ায় বরিশালে ২২ দিনের ইলিশ অভিযান কঠিন হবে

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ৬, ২০২৬, ০৭:০০ পিএম

বরাদ্দ কমে যাওয়ায় বরিশালে ২২ দিনের ইলিশ অভিযান কঠিন হবে

প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বরাদ্দ চার ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে। এর ওপর আবার জ্বালানি তেলের চড়া দাম। এমন তীব্র বাজেট সংকট ও সীমিত সামর্থ্য নিয়েই মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের বিশেষ অভিযানে নামছে বরিশালের মৎস্য বিভাগ। মৎস্য কর্মকর্তাদের মতে, প্রকল্পের আর্থিক প্রবাহ বন্ধ থাকায় এত দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান চালানো এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের মদদ ছাড়া জেলেদের নদী থেকে দূরে রাখা একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আগামীকাল বুধবার (৭ অক্টোবর) দিনগত রাত ১২টা থেকেই প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষার্থে এই ২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে।

নিষেধাজ্ঞা সফল করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে মা ইলিশ সংরক্ষণে বরিশালের মেঘনা তীরবর্তী হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে মৎস্য অধিদপ্তর। তবে এসব গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অভিযান পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ ও জনবল নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মৎস্য কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছ থেকে কতটা সহযোগিতা পাওয়া যাবে, তা নিয়েও তাদের মধ্যে যথেষ্ট উদ্বেগ কাজ করছে। হিজলা উপজেলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি ফারুক খান জানান, শুধু সভা-সেমিনার আয়োজন করে মা ইলিশ রক্ষা করা সম্ভব নয় এবং ক্ষমতাসীনদের সহযোগিতা ছাড়া ইলিশ রক্ষা অত্যন্ত কঠিন। তবে স্থানীয় বিএনপি নেতারা এবার জেলেদের নদীতে না নামানোর বিষয়ে কঠোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

 হিজলা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলতাব হোসেন খোকন দপ্তরী জানান, তারা জেলেদের নিয়ে সভা করেছেন এবং নিষেধাজ্ঞার সময়ে নদীতে না যাওয়ার বিষয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন। মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক দিপেন জমাদ্দার জানান, নৌ প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য রাজিব আহসানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে টাস্কফোর্সের সভা হয়েছে এবং মা ইলিশ রক্ষায় তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে। মেহেন্দীগঞ্জে দায়িত্ব পালনকারী মুলাদী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল বাশার জানান, একই সঙ্গে দুটি উপজেলায় দায়িত্ব পালন করা অত্যন্ত কঠিন এবং কোনো প্রকল্প না থাকায় বরাদ্দের মারাত্মক সংকট রয়েছে। এবারের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেন বরিশাল জেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ড. হাদিউজ্জামান। এর কারণ হিসেবে তিনি জানান, গত জুনে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে, যে প্রকল্পের অর্থ থেকেই অভিযানের বড় একটি অংশের ব্যয় নির্বাহ করা হতো। 

এখন কেবল রাজস্ব খাতের বরাদ্দ দিয়েই পুরো অভিযান পরিচালনা করতে হবে। আগের মতো বাজেট না থাকলে ২২ দিনের এই অভিযান চালিয়ে যাওয়া কঠিন হবে এবং আগের বরাদ্দ অনুযায়ী মাত্র দুই দিনেই সব নৌযানের জ্বালানি খরচ শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জের মেঘনা নদীতে এবার দুটি লঞ্চ ও স্পিডবোট রাখা হবে এবং নদীতীরবর্তী ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধিদেরও অভিযানের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে মা ইলিশ সংরক্ষণের মূল এলাকায় এখনো পর্যাপ্ত কর্মকর্তা না থাকায় জেলেদের নদীতে নামা ঠেকাতে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের সহায়তা হিসেবে প্রতিটি পরিবারকে ২৫ কেজি করে ভিজিএফের চাল দেওয়া হচ্ছে। বরিশাল জেলায় এ কর্মসূচির আওতায় ৭৯ হাজার ৮৯০ পরিবার চাল পেলেও জেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৮৪ হাজার ২৫৯ জন। বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক কামরুল হাসান জানান, আগের প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি উপজেলায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ পাওয়া গেলেও এখন রাজস্ব খাত থেকে পাওয়া যাবে মাত্র এক থেকে দেড় লাখ টাকা। এর মধ্যে জ্বালানির দামও বেড়ে যাওয়ায় সীমিত অর্থে দীর্ঘ সময় অভিযান পরিচালনা করা বেশ কঠিন হবে। 

এদিকে নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে বরিশালের পোর্ট রোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ইলিশের সরবরাহ বাড়লেও দাম কমেনি। উল্টো প্রতি মণ ইলিশের দাম চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, যেখানে এক কেজি ওজনের ইলিশ দুই হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।