অক্টোবর ৬, ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম
নোয়াখালীর সেনবাগে সুন্দলপুর গ্যাসক্ষেত্রে নতুন কূপ খনন কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। সম্প্রতি শুরু হওয়া `সুন্দলপুর-৪` নামের এই কূপটির খনন কাজ সম্পন্ন করতে প্রায় দুই মাসের মতো সময় লাগবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, খনন শেষে এই নতুন কূপ থেকে দৈনিক ৫ থেকে ৭ মিলিয়ন বা ৫০ থেকে ৭০ লাখ ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হবে। তবে সুন্দলপুরের আগের কোনো কূপ থেকেই দৈনিক ভিত্তিতে এত বেশি পরিমাণ গ্যাস উত্তোলন করা যায়নি।
জ্বালানি মজুদের দিক থেকে এটি একটি সীমিত আকারের ক্ষেত্র। হাইড্রোকার্বন ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, সুন্দলপুর গ্যাসক্ষেত্রে সম্ভাব্য মোট গ্যাসের মজুদ রয়েছে ৫০ বিলিয়ন কিউবিক ফুট বা ৫০ বিসিএফ। গত এপ্রিল মাসের হালনাগাদ প্রতিবেদন বলছে, এই মজুদের মধ্যে এরই মধ্যে ২৩ বিসিএফ গ্যাস উত্তোলন সম্পন্ন হয়েছে। তুলনামূলকভাবে ছোট আকারের এই ক্ষেত্রটি থেকে কখনোই এককালীন বিশাল পরিমাণ গ্যাস আহরণ সম্ভব হয়নি।
নতুন এই চার নম্বর কূপটির অবস্থান সেনবাগ উপজেলার নবিপুর ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও গ্রামে। এর আগে ২০১৩ সালে পার্শ্ববর্তী উপজেলা কোম্পানীগঞ্জের সিরাজপুর এলাকায় প্রথম সুন্দলপুর গ্যাসক্ষেত্রটি আবিষ্কার করা হয়েছিল। সেখানে পর্যায়ক্রমে তিনটি কূপ খনন করা হয়। বাণিজ্যিকভাবে খুব বেশি মজুদের সম্ভাবনা না থাকলেও সুন্দলপুর গ্যাসক্ষেত্রটির বিস্তার বেশ কিছু ভৌগোলিক এলাকা জুড়ে রয়েছে। ভূগর্ভস্থ স্তর বিবেচনায় রেখে খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কূপটির ড্রিলিং ইনচার্জ জাকির হোসেন খান জানিয়েছেন, ভূতাত্ত্বিক জরিপের ফলাফল অনুযায়ী ভূগর্ভের প্রায় ১ হাজার ৩৬১ মিটার গভীরে সম্ভাব্য গ্যাসের স্তর বা স্তরের উপস্থিতি থাকার জোরালো ধারণা পাওয়া গেছে। সেই বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৬০০ মিটার গভীর পর্যন্ত খননের লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে আগামী দুই মাসের মধ্যেই এই নির্ধারিত গভীরতায় খনন কাজ সমাপ্ত করা সম্ভব হবে।
বাপেক্সের খনন বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, সুন্দলপুর ক্ষেত্রে এর আগে তিনটি কূপ খনন করা হয়েছিল। ২০১৩ সালে খনন করা প্রথম কূপটি থেকে বর্তমানে আর কোনো গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না এবং এর উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। তিন নম্বর কূপটির ওপরের স্তর থেকে গ্যাস উত্তোলন শেষ হওয়ার পর সেটি বর্তমানে পানি প্রবেশের কারণে বন্ধ হয়ে আছে। পরবর্তীতে ওয়ার্কওভার বা সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে এই তিন নম্বর কূপটি থেকে পুনরায় গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে ক্ষেত্রটির একমাত্র সচল দুই নম্বর কূপ থেকে দৈনিক ১ দশমিক ১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আহরণ করা হচ্ছে। যদিও পেট্রোবাংলার দৈনিক উৎপাদন চার্টে এই কূপটির সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতা দৈনিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট বলে লিপিবদ্ধ রয়েছে।
খনন কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হলেও সঙ্গে সঙ্গেই এই গ্যাস জাতীয় সরবরাহ লাইনে যুক্ত করা যাবে না। নতুন কূপ থেকে উত্তোলিত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে কূপ এলাকা থেকে গ্রিড লাইন পর্যন্ত নতুন পাইপলাইন স্থাপন এবং প্রসেস প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তবে সুন্দলপুর একটি পুরনো ও চালু ক্ষেত্র হওয়ায় পার্শ্ববর্তী কোম্পানীগঞ্জ থেকে সেনবাগ পর্যন্ত সংযোগ পাইপলাইন নির্মাণ সম্পন্ন করলেই নতুন কূপের গ্যাস জাতীয় গ্রিডে স্থানান্তর করা সহজ হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন