শনিবার, ০৩ অক্টোবর, ২০২৬,
মা ইলিশ সংরক্ষণ

সাড়ে ৬ লাখ জেলে পরিবারকে ‘বড় সুখবর দিলো সরকার

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ৩, ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম

সাড়ে ৬ লাখ জেলে পরিবারকে ‘বড় সুখবর দিলো সরকার

ছবি: Ai

মা ইলিশ সংরক্ষণ মৌসুমে মাছ ধরা থেকে বিরত রাখতে দেশের প্রায় সাড়ে ছয় লাখ জেলে পরিবারের জন্য চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের ৩৮টি জেলার ১৬৮টি উপজেলার মোট ছয় লাখ ৪৬ হাজার ২৯০টি জেলে পরিবারের জন্য এক হাজার ৬৫৭ মেট্রিক টন চাল মানবিক সহায়তা হিসেবে দেওয়া হচ্ছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মৎস্য-দুই শাখা থেকে গত ২৮ সেপ্টেম্বর জারি করা এক সরকারি আদেশে এই খাদ্য সহায়তা বরাদ্দ করা হয়। ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে আগামী ৬ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

এই নিষিদ্ধ সময়ে জেলেদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা নির্বাহের সুবিধার্থে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি পরিবারকে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। বরাদ্দের তালিকায় ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলাসহ শরীয়তপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, কিশোরগঞ্জ ও মানিকগঞ্জের মতো ইলিশ আহরণকারী উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জেলাওয়ারি বরাদ্দের মধ্যে শরীয়তপুরের ২৬ হাজার ১২৯টি পরিবারের জন্য ৬৫৩ দশমিক ২২৫ মেট্রিক টন, মানিকগঞ্জের নয় হাজার ২৬২টি পরিবারের জন্য ২৩১ দশমিক ৫৫ মেট্রিক টন এবং রাজবাড়ীর পাঁচ হাজার ৫৯২টি পরিবারের জন্য ১৩৯ দশমিক ৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পেয়েছে।

রাজশাহী বিভাগের আওতায় ১৯ হাজার ৪১১টি পরিবারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৪৮৫ দশমিক ২৭৫ মেট্রিক টন চাল। এর ভেতরে পাবনার তিন হাজার ৫০০ পরিবারের জন্য ৮৭ দশমিক পাঁচ মেট্রিক টন, বগুড়ার এক হাজার ৮৯০ পরিবারের জন্য ৪৭ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন এবং নাটোরের ৭৫০ পরিবারের জন্য ১৮ দশমিক ৭৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগে কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার মোট ১৬ হাজার ১২৬টি জেলে পরিবারের অনুকূলে গেছে ৪০৩ দশমিক ১৫ মেট্রিক টন চাল। এর মধ্যে কুড়িগ্রামের নয় হাজার ৬১৬ পরিবারের জন্য ২৪০ দশমিক চার মেট্রিক টন এবং গাইবান্ধার ছয় হাজার ৫১০ পরিবারের জন্য ১৬২ দশমিক ৭৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

সরকারি নির্দেশনায় জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, মানবিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে নিবন্ধিত ও প্রকৃত মৎস্যজীবীদের মাঝেই কেবল এই চাল বিতরণ করতে হবে। জেলা প্রশাসকদের বরাদ্দ প্রাপ্তির এক কার্যদিবসের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের অনুকূলে উপ-বরাদ্দ দিতে হবে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা পরবর্তী দুই কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের কাছে চালের ছাড়পত্র হস্তান্তর করবেন।

বিতরণের পুরো প্রক্রিয়া তদারকিতে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বা তার প্রতিনিধি এবং একজন ট্যাগ কর্মকর্তার সশরীরে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। নিবন্ধিত বা পরিচয়পত্রধারী প্রকৃত জেলে ছাড়া অন্য কাউকে এই সহায়তা না দেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী ৮ অক্টোবরের মধ্যে চাল বিতরণ শেষ করে পরবর্তী দশ কার্যদিবসের মধ্যে মৎস্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে চূড়ান্ত হিসাব পাঠাতে বলা হয়েছে।