বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬,

মা ইলিশ ধরলেই ৬ মাসের জেল ও কার্ড বাতিলের নির্দেশ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১, ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম

মা ইলিশ ধরলেই ৬ মাসের জেল ও কার্ড বাতিলের নির্দেশ

প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ শিকার করলে সংশ্লিষ্ট জেলেদের কমপক্ষে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি তাদের নিবন্ধিত জেলে কার্ড বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা মৎস্য দপ্তর আয়োজিত মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান উপলক্ষে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত জেলা টাস্কফোর্স কমিটির প্রস্তুতি সভায় সভাপতির বক্তব্যে এই হুঁশিয়ারির কথা জানান জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর। আইন প্রয়োগের কঠোরতায় কোনো প্রকার ছাড় না দেওয়ার অঙ্গীকার প্রশাসনের।

প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় আগামী ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ এবং ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এই সময়ে চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীর মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম এলাকায় থাকবে সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পাহারা। নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সমন্বিত তৎপরতার অংশ হিসেবে নদী সংলগ্ন খালের মুখ বন্ধ রাখা এবং অভয়াশ্রমে পাঁচটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞাকালীন সাধারণ জেলেদের জীবিকা সুরক্ষায় খাদ্যসহায়তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর জানান, জেলার মোট ৪১ হাজার ৩৯০ জন নিবন্ধিত জেলের প্রত্যেককে ২৫ কেজি করে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেরা যেন কোনো ধরনের ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপে না পড়েন, সেই বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে উপকূলীয় এলাকার জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সক্রিয় সহায়তা ছাড়া এই মহাযজ্ঞ সফল করা সম্ভব নয়।

সভায় উপস্থাপিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞার পুরো ২২ দিন উপকূলীয় সব বরফকল পুরোপুরি বন্ধ থাকবে এবং নদীতে যেকোনো ধরনের ড্রেজার চলাচল কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম জানান, জেলার বাইরে থেকে বহিরাগত জেলেরা যাতে জলসীমায় ঢুকতে না পারেন, সেজন্য সার্বক্ষণিক কড়া নজরদারি বজায় রাখা হবে। অভয়াশ্রম এলাকার গুরুত্বপূর্ণ আট থেকে নয়টি খালের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হবে, যাতে অপরাধীরা নৌকা নিয়ে আত্মগোপন বা অননুমোদিত শিকারে যেতে না পারে। একই সাথে জেলা পুলিশের তত্ত্বাবধানে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে চেকপোস্ট বসানো হবে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবস্থা নিতে একটি কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত রাখা হবে।

সভায় নৌ পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উজালা রানী চাকমা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল মো. খায়রুল কবীর, কোস্টগার্ড স্টেশন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মুহতাছিন ইসলাম এবং সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক অভিযানের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন। এছাড়া মতবিনিময় করেন হাইমচর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবু রহমান, জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি গোলাম মোস্তফা এবং শহরের টিলাবাড়ি এলাকার প্রান্তিক জেলে মো. জাহিদ হোসেন ও আব্দুল বারেক। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মা ইলিশের নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করে জাতীয় ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন অংশীজনরা।