অক্টোবর ৪, ২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইক, শেয়ার ও মন্তব্য পাওয়ার নোংরা প্রতিযোগিতায় নেমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। রোববার (৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সরকারের এই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তিনি।
রাজনীতিতে সত্যের ভিত্তিতে গঠনমূলক সমালোচনা না করে মিথ্যা ছড়ানো কোনো সুস্থ সংস্কৃতি হতে পারে না বলে উল্লেখ করেন তিনি। উপদেষ্টা জানান, শনিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ছবি প্রকাশের পর থেকেই স্বার্থান্বেষী একটি মহল তা নিয়ে মনগড়া বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার শুরু করে। অথচ ওই ছবিটি সরাসরি হোয়াইট হাউস থেকেই প্রকাশ করা হয়েছিল এবং রোববার ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসও তা নিজেদের অফিশিয়াল মাধ্যমে শেয়ার করেছে। দূতাবাস নিজেই ছবি শেয়ার করার পর আর কী সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার প্রয়োজন থাকে এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক কূটনৈতিক বাস্তবতা।
তাঁদের মধ্যকার আলোচনা ছিল আন্তরিক ও স্বতঃস্ফূর্ত, সুতরাং এমন একটি আন্তর্জাতিক সৌজন্য সাক্ষাৎ নিয়ে সরকারপ্রধানের কোনো অসত্য তথ্য দেওয়ার কারণ নেই। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে সাম্প্রতিক বিভিন্ন মিথ্যাচারের তীব্র প্রতিবাদ জানান মাহ্দী আমিন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে নিয়েও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভুল তথ্য প্রচার করা হয়েছিল। একটি পাবলিক অনুষ্ঠানে তিনি জনৈক বিতর্কিত ব্যক্তির সঙ্গে একই মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন বলে অপপ্রচার চালানো হলেও পরবর্তীতে স্বয়ং আয়োজকরাই নিশ্চিত করেছেন যে তথ্যটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ছিল।
একইভাবে প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমানকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানোর কঠোর সমালোচনা করে তিনি জানান, সম্পূর্ণ নিজস্ব মেধা ও ব্যক্তিগত যোগ্যতার ভিত্তিতে জাইমা জাতিসংঘে চাকরি পেয়েছেন। এর সাথে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সম্পর্ক নেই, অথচ মহলটি প্রচার করেছে যেন সরকারই তাঁকে সেই চাকরি পাইয়ে দিয়েছে।
সম্প্রতি এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন যে প্রশাসনিক অনুসন্ধানে ঘটনাটি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রমাণিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জায়গাটি অবৈধ হওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল এবং এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। তবে যেকোনো ধরনের ভাঙচুর অনাকাঙ্ক্ষিত হওয়ায় সরকার তাৎক্ষণিক কঠোর অবস্থান নিয়ে ইতিমধ্যে মামলা দায়ের, গ্রেপ্তার ও তদন্ত কার্যক্রম চলমান রেখেছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রকৃত চিত্র এমন হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলে বিএনপির নাম জড়িয়ে চাঁদাবাজির মিথ্যা বর্ণনা ছড়ানো হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে কোনো বক্তব্য ব্যাপক ভিউ বা প্রচার পেলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সত্য হয়ে যায় না উল্লেখ করে তিনি গণমাধ্যম ও সচেতন নাগরিকদের সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে নির্মোহ থাকার আহ্বান জানান।
বর্তমান সরকারের আমলে দেশে সর্বোচ্চ বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত রয়েছে দাবি করে মাহ্দী আমিন বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেই রাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছে। এর প্রমাণ হিসেবে তিনি কুষ্টিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কটূক্তির অভিযোগে আটক হওয়া এক স্কুলশিক্ষকের ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরেন। বিষয়টি নজরে আসার সাথে সাথেই প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশে ওই শিক্ষককে পুলিশি পাহারায় সসম্মানে তাঁর নিজ বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। অশালীন আচরণ পরিহার করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও গণতান্ত্রিক সহাবস্থান বজায় রাখার সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন