অক্টোবর ৪, ২০২৬, ১১:০২ পিএম
আন্তর্জাতিক ফুটবলে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সিতে কিংবদন্তি লিওনেল মেসির অবিস্মরণীয় অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটতে চলেছে। বেনিনের বিপক্ষে আসন্ন প্রীতি ম্যাচের মাধ্যমে আকাশী-সাদা জার্সিতে ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকা শেষবারের মতো মাঠে নামবেন। বুয়েনস এইরেসের ঐতিহ্যবাহী মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই বিদায়ী ম্যাচকে ঘিরে পুরো দল এবং কোটি কোটি সমর্থকের হৃদয়ে তীব্র আবেগ ও ভালোবাসার জোয়ার বইছে। বুরকিনা ফাসোকে সাত-শূন্য গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দেওয়ার পর আলবিসেলেস্তেরা এখন পূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছে সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবল জাদুকরকে বর্ণাঢ্য সম্মাননায় বিদায় জানানোর।
মাঠের মহানায়কের শেষ মুহূর্তগুলোকে স্মরণীয় করে তুলতে দলের প্রতিটি খেলোয়াড় নিজেদের গভীর অনুভূতি ও স্মৃতি তুলে ধরেছেন। অধিনায়কের সাথে নিবিড় সময় কাটানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তারকা মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ জানান, পুরো দল তাঁর ক্যাম্পের উপস্থিতির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর সঙ্গে আড্ডায় সময় কাটানো, বারবিকিউ উপভোগ করা এবং এই কয়েকটি দিন স্মরণীয় করে রাখা তাদের মূল চাওয়া। মেসি এই প্রাপ্য সম্মান পাওয়ার সম্পূর্ণ যোগ্য এবং তাঁর বিদায়ী প্রহর যেন সর্বোচ্চ আনন্দময় হয়, সেই লক্ষ্যেই সতীর্থরা মুখিয়ে আছেন।
জাতীয় দলের নতুন প্রজন্মে মেসির সাথে প্রথমবারের মতো ড্রেসিংরুম ভাগ করে নেওয়ার দুর্লভ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন তরুণ ফরোয়ার্ড সান্তিয়াগো কাস্ত্রো। তিনি বলেন, এই প্রথমবার তিনি জাতীয় দলে মেসির প্রত্যক্ষ সান্নিধ্যে এসেছেন, যা একই সাথে এক পরাবাস্তব অনুভূতি ও গভীর বেদনার। কারণ প্রতিটি ফুটবলপ্রেমী সারাজীবন তাঁকে মাঠে খেলতে দেখতে চায়। তিনি স্মরণ করেন, শৈশবে মেসি যখন জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেক করেছিলেন, ঠিক তখনই তিনি জীবনে প্রথম ফুটবল দেখা শুরু করেছিলেন। কাস্ত্রোর কথায়, মেসিই মূলত তাঁকে মাঠের ফুটবল, জাতীয় দল এবং আর্জেন্টিনার মর্যাদাপূর্ণ জার্সির প্রেমে পড়তে শিখিয়েছিলেন।
বিদায়বেলার তীব্র আবেগকে আনন্দ ও বেদনার অনন্য মিশেল হিসেবে বর্ণনা করেছেন উঠতি তারকা আগুস্তিন জিয়া। তিনি মন্তব্য করেন, মনুমেন্তালের সেই রাতটি এক ঐতিহাসিক ও আবেগঘন রাতে পরিণত হতে চলেছে। একদিকে প্রিয় অধিনায়কের সফল বিদায়ের প্রশান্তি, অন্যদিকে তাঁকে আর কখনো জাতীয় দলের নেতৃত্বে না দেখার অপার শূন্যতা মিলিয়ে দিনটি মিশ্র অনুভূতির হবে। মেসি ফুটবল বিশ্বকে অগাধ আনন্দ উপহার দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি জানান, মাঠের প্রতিটি সেকেন্ড দল প্রাণভরে উপভোগ করবে।
একই অনুভূতি প্রকাশ করে তরুণ জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানি বলেন, শৈশব থেকে মেসিকে আদর্শ মেনে বড় হয়েছেন তিনি। ফলে জাতীয় দলের হয়ে তাঁর ঐতিহাসিক বিদায়ের মুহূর্তের সাক্ষী হতে পারা একদিকে পরম প্রাপ্তি, অন্যদিকে প্রিয় তারকাকে আর জাতীয় দলের জার্সি গায়ে না দেখার বাস্তবতা অত্যন্ত কষ্টদায়ক। মেসির শেষ ম্যাচের মঞ্চে উপস্থিতি নিশ্চিত করাকে নিজের ফুটবল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন মাতিয়াস সুলে। তিনি জানান, জাতীয় দলের বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের ইতি টানা প্রতিটি সতীর্থের জন্যই এক গভীর আবেগের মুহূর্ত। সুলে বলেন, মেসি সমগ্র পৃথিবীর ক্রীড়াপ্রেমীদের এক চিরন্তন অনুপ্রেরণা এবং আর্জেন্টিনার জাতীয় বীর।
তাই আসন্ন ম্যাচটি যেমন বিদায়ের ব্যথায় ভারী হবে, তেমনি উদযাপনের দৃষ্টিকোণ থেকে হয়ে উঠবে এক অভাবনীয় দৃশ্য। দলের প্রাণভোমরাকে বিদায় জানানোর পরিকল্পনা তুলে ধরে তারকা গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ বলেন, তাঁদের প্রধান লক্ষ্য থাকবে মেসি যেন এই বিদায়ী মুহূর্তটি পুরোপুরি উপভোগ করতে পারেন। তাঁকে অকৃত্রিম ভালোবাসায় ভরিয়ে দেওয়া, বারবার স্নেহ প্রকাশ করা এবং প্রতিটি মুহূর্তে সর্বোচ্চ আনন্দে রাখার সম্মিলিত চেষ্টা করবেন তারা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন