অক্টোবর ৪, ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত ও দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্যদের যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরিয়ে আনতে চলমান প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ভারত ত্বরান্বিত করবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ। বিষয়টি কেবল আইনি আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর সঙ্গে দুই দেশের রাজনৈতিক সদিচ্ছাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। রোববার (৪ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সরকারের এই স্পষ্ট কূটনৈতিক বার্তা তুলে ধরেন তিনি।
আসামিদের দ্রুত ফেরত আনার ক্ষেত্রে ভারতের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে ঢাকা। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শামা ওবায়েদ জানান, আসামিদের হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আইনি কার্যক্রম নিশ্চিতভাবেই চলমান রয়েছে, তবে একই সঙ্গে রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি থাকা সমভাবে জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, অভিযুক্তদের ফিরিয়ে আনার জন্য যে প্রত্যর্পণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে, তা যেন কোনো ধরনের বিলম্ব ছাড়াই দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন হয়, ভারত সরকার সেই দিকে ইতিবাচক নজর দেবে বলেই বাংলাদেশ বিশ্বাস করে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ও দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা রয়েছে এবং ভারতের পক্ষ থেকেও একই ধরনের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি কাম্য। বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তির কাঠামোর অধীনেই অভিযুক্ত ব্যক্তিদের হস্তান্তর করা আইনত সম্ভব উল্লেখ করে তিনি জানান, এ বিষয়ে পররাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা অবিরাম এগিয়ে নিচ্ছে। এর আগে শনিবার রাজধানীতে এক আন্তর্জাতিক আলোচনা সভায় বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেন।
ঢাকায় আয়োজিত বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের অংশ হিসেবে আয়োজিত একটি গোলটেবিল বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করেন যে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে বারবার প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান ব্যক্ত করেছে। তিনি জানান, প্রত্যর্পণ একটি সুসংগঠিত আইনি কাঠামোর অংশ এবং সেই দৃষ্টিকোণ থেকে পুরো প্রক্রিয়াটি বর্তমানে চলমান রয়েছে। বিষয়টি সরাসরি বিচারিক ও আদালতের এখতিয়ারভুক্ত হওয়ায় এর কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ভারতীয় হাইকমিশনার জোর দিয়ে বলেন যে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার যেকোনো জটিলতা নিরসনে ধারাবাহিক সংলাপ, পারস্পরিক পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও গভীর আস্থার বাতাবরণ রক্ষা করা অপরিহার্য।
তিনি উল্লেখ করেন, সমস্যাকে আড়াল করে বা আলোচনা বন্ধ রেখে কোনো সুরাহা হয় না, বরং প্রতিটি অমীমাংসিত সংকটেরই বাস্তবিক সমাধান রয়েছে। তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন, আঞ্চলিক বাণিজ্য, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, পারস্পরিক যোগাযোগ ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত পরিবহনসহ যাবতীয় দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে উপযুক্ত ফোরামে ধারাবাহিক সম্পৃক্ততা বজায় রাখার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গতি কিছুটা মন্থর হলেও তা কখনোই স্থবির হয়ে যায়নি জানিয়ে এই কূটনীতিক নিশ্চয়তা দেন যে প্রক্রিয়াটি চলমান রয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমেই ইতিবাচক সমাধান আসবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন