অক্টোবর ৪, ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সিতে লিওনেল মেসির বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের শেষ মুহূর্তটি অত্যন্ত কাছে চলে এসেছে। ঘরের মাঠে ক্যারিয়ারের সম্ভাব্য শেষ ম্যাচকে সামনে রেখে অধিনায়ককে ঘিরে আবেগঘন মন্তব্য করেছেন আলবিসেলেস্তে কোচ লিওনেল স্কালোনি। তাঁর সুস্পষ্ট মূল্যায়ন, মেসি জাতীয় দল থেকে বিদায় নিলে আর্জেন্টিনা দল নিশ্চিতভাবেই সামনের দিকে এগিয়ে যাবে, তবে দলটির সামগ্রিক আবহ কখনোই আগের মতো থাকবে না। বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে সাত-শূন্য গোলের বিশাল ব্যবধানে জয়ের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মেসির বিদায়ের বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেন আর্জেন্টাইন এই কোচ।
আগামী মঙ্গলবার মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে শেষবারের মতো মাঠে নামার কথা রয়েছে এই মহাতারকার। মেসিকে ছাড়া জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ভাবতেই স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ছেন কোচ। স্কালোনি উল্লেখ করেন যে এখন থেকে মেসিকে ঘিরে তাদের স্মৃতি ছাড়া আর কিছুই পড়ে থাকবে না, তবে বাস্তবতা মেনে নিয়ে দলটিকে নিজেদের পথচলা অব্যাহত রাখতে হবে। মাঠের ফুটবলে মেসির উপস্থিতি কেবল সতীর্থদের জন্যই অনুপ্রেরণাদায়ী নয়, বরং প্রতিপক্ষ ও গ্যালারির সাধারণ সমর্থকদের মাঝেও এক অভূতপূর্ব অনুভূতির জন্ম দেয়।
কোনো একক খেলোয়াড়ের এমন জাদুকরী ও দূরপ্রসারী প্রভাব আধুনিক ফুটবলে তিনি আর কখনো দেখেননি বলে মন্তব্য করেন আর্জেন্টাইন মাস্টারমাইন্ড। মেসি দল ছেড়ে গেলে আর্জেন্টিনা দল সবচেয়ে বেশি কী হারাবে এমন প্রশ্নে স্কালোনি স্পষ্ট জানান যে জাতীয় দল থাকবে এবং ফুটবল খেলাও চলবে, তবে মেসিকে ছাড়া সেই দলটির চেনা চেহারা স্বাভাবিকভাবেই আর অপরিবর্তিত থাকবে না। ম্যাচের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরে নিয়মিত অনুশীলন ও প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও মেসিকে দলের প্রতিটি সদস্যের জন্য এক নিখুঁত ও অনুকরণীয় আদর্শ হিসেবে মূল্যায়ন করেন স্কালোনি।
তিনি জানান, অনুশীলনে মেসি সর্বদা সবার আগে মাঠে প্রবেশ করেন এবং সবশেষে মাঠ ত্যাগ করেন। নিজের শারীরিক সুস্থতা, ফিটনেস ও ম্যাচের প্রস্তুতির ব্যাপারে এই মহাতারকা সর্বোচ্চ মনোযোগী থাকেন, যা তরুণ ফুটবলারদের জন্য প্রতিদিনের এক অনন্য শিক্ষার ক্ষেত্র। কোচের মতে, মেসির মাহাত্ম্য কেবল পায়ের অবিশ্বাস্য জাদুতে সীমাবদ্ধ নয়। মাঠে তাঁর কৌশল ও দক্ষতা দেখলেই অনুধাবন করা যায় তিনি বিশ্ব ফুটবলে কতটা অদ্বিতীয়। এর বাইরে ড্রেসিংরুমে সতীর্থরা মেসির বিনয়ী ব্যক্তিত্ব ও পেশাদারিত্বের এমন অনেক অভ্যন্তরীণ দিক প্রত্যক্ষ করেন, যা সাধারণ দর্শকদের পক্ষে বাইরে থেকে বোঝা সম্ভব হয় না।
এদিকে মনুমেন্তালে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মেসির এই সম্ভাব্য বিদায়ী ম্যাচ ঘিরে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে টিকিটের চাহিদা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। স্কালোনির অভিমত, ওই ম্যাচের জন্য পাঁচটি বিশাল স্টেডিয়াম বরাদ্দ থাকলেও সবগুলোই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যেত। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে টিকিটের জন্য অবিরাম অনুরোধ আসতে থাকায় কাকে টিকিট দেওয়া সম্ভব হবে আর কাকে বাদ রাখা হবে, তা ব্যবস্থাপনা করাই এখন সবচেয়ে বড় জটিলতায় রূপ নিয়েছে।
তিনি বিশ্বাস করেন, মেসির এই বিদায়ী প্রীতি ম্যাচটি অত্যন্ত আবেগাপ্লুত এক আবহে রূপ নেবে। মাঠে মেসির শেষবারের মতো পা রাখার ঐতিহাসিক মুহূর্তটি তাঁর নিজের পাশাপাশি সতীর্থ, কোটি কোটি ভক্ত ও বিশ্ব ফুটবল সংশ্লিষ্ট প্রতিটি মানুষের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই দুর্লভ ইতিহাসের সরাসরি অংশ হতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করে স্কালোনি বলেন, এই দিনটির আসল মালিক মূলত মেসি এবং তাঁর সতীর্থরা, যারা দীর্ঘদিন ধরে মাঠে তাঁর প্রতিটি সাফল্য ও আনন্দের অংশীদার ছিলেন।
একই সাথে আর্জেন্টিনার প্রধান কোচের দায়িত্বে নিজের ভবিষ্যৎ ধারাবাহিকতা নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন স্কালোনি। তিনি নিশ্চিত করেন যে কোচের পদে থেকে যাওয়ার জন্য তাঁর ওপর কোনো প্রকার প্রশাসনিক চাপ নেই এবং কেউ জোরপূর্বক তাঁকে ধরে রাখছে না। কোচের পদের মানসিক ও শারীরিক চাপের মধ্যেও ব্যক্তিগত জীবনকে প্রাণভরে উপভোগ করাকে সবচেয়ে জরুরি মনে করেন তিনি। স্কালোনির মতে, ফুটবলের মতো বিশাল দায়িত্ব যেন ব্যক্তিগত জীবনকে গ্রাস না করে ফেলে, সেদিকে নজর রেখে ভারসাম্য ধরে রাখাই তাঁকে এই কঠিন দায়িত্বে স্বাভাবিক রাখে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন