অক্টোবর ৪, ২০২৬, ১১:৩৬ এএম
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মেক্সিকোর বিপক্ষে ৩-০ গোলের দুর্দান্ত এক জয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পুরুষ জাতীয় ফুটবল দলের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার নতুন রেকর্ড গড়েছেন ক্যাভান সুলিভান। শনিবার অ্যারিজোনার গ্লেনডেলের স্টেট ফার্ম স্টেডিয়ামে দূরপাল্লার এক দৃষ্টিনন্দন শটে তিনি এই ইতিহাস লেখেন। ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের এই মিডফিল্ডার ম্যাচের ৬২তম মিনিটে জালের দেখা পান।
তার বয়স এখন ১৭ বছর ও পাঁচ দিন। মেক্সিকোর অর্ধেকের মাঝামাঝি জায়গায় গোলরক্ষক রাউল রাঙ্গেলের একটি পাস থেকে বল কেড়ে নেন সুলিভান। এরপর অত্যন্ত দক্ষতায় তিনি ফাঁকা জালে বলটি তুলে দেন। মাত্র চার দিন আগে চিলির বিপক্ষে ১৭ বছর ও ১৩১ দিন বয়সে আগের রেকর্ডটি গড়েছিলেন ম্যাথিস আলবার্ট। তারও আগে এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন ক্রিস্টিয়ান পুলিসিক, যার বয়স ছিল ১৭ বছর ২৫৩ দিন। টিএনটি স্পোর্টসকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় এই তরুণ তারকা বলেন, এটি তার জীবনের সবচেয়ে অবিশ্বাস্য মুহূর্ত। তিন-চার বছর বয়স থেকেই তিনি এমন মুহূর্তের স্বপ্ন দেখেছেন জানিয়ে বলেন, শুধু গত কয়েক ঘণ্টা নয়, সারা জীবন ধরেই এই মুহূর্তটিকে বাস্তবে পরিণত করার চেষ্টা করেছেন তিনি। কোচের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সুলিভান আরও বলেন, এটি তার এবং পরিবারের জন্য দারুণ সম্মানের এবং কোচরা আস্থা রেখে তাকে সুযোগ দেওয়ায় তিনি সত্যিই কৃতজ্ঞ। গোল করার কয়েক মিনিট পরই তাকে মাঠ থেকে তুলে নেন যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মরিসিও পচেত্তিনো।
এ সময় কোচ তাকে জড়িয়ে ধরে অভিনন্দন জানান। নিজের শট নিয়ে সুলিভান বলেন, তার শুধু মনে আছে বলটি তিনি চিপ করেছিলেন এবং ভাবছিলেন যেন ক্রসবারে লেগে ফিরে না আসে বা ওপর দিয়ে চলে না যায়। বল যখন হাওয়ায় ভাসছিল তখন বেশ নার্ভাস লাগছিল জানিয়ে তিনি বলেন, দলের সবাই ছুটে এসে তার সঙ্গে উদযাপন করেছে, যা প্রমাণ করে এই দলটা সত্যিই বিশেষ কিছু।
জাতীয় দলের জার্সিতে এটি ছিল তার তৃতীয় ম্যাচ। গত সপ্তাহেই ফ্রেডি আদুর পর যুক্তরাষ্ট্রের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে মূল একাদশে মাঠে নামার রেকর্ডও গড়েন তিনি, যা ২০০৬ সালের পর প্রথমবার ঘটল।
তার এই জাদুকরী গোলেই ম্যাচে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিল তারুণ্যনির্ভর যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে জিও রেইনার পাস থেকে প্রথমার্ধেই দলের প্রথম গোলটি করেন ১৮ বছর বয়সী জুলিয়ান হল। এই গোলের মাধ্যমে ২০০৪-০৫ মৌসুমে এডি জনসন ও ১৯৩৭ সালে আলেকজান্ডার রের পর জাতীয় দলের ইতিহাসে নিজের খেলা প্রথম তিন ম্যাচের প্রতিটিতেই গোল করা তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে নাম লেখান হল। দলের ইতিহাসে এই প্রথম টানা ১০টি ম্যাচের প্রথমার্ধে গোল পেল যুক্তরাষ্ট্র।
মেক্সিকোর মাতেও শ্যাভেজ লাল কার্ড দেখলে তাদের রাতের দুর্দশা আরও বাড়ে। এরপর বায়ার লেভারকুজেনের মিডফিল্ডার মালিক তিলমান জাতীয় দলের হয়ে নিজের শেষ চার ম্যাচে তৃতীয় গোলটি করে দলের ৩-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে বেলজিয়ামের কাছে হতাশাজনক বিদায়ের পর নতুন প্রজন্মের এই দলকে নিয়ে নিজেদের খেলা তিনটি প্রীতি ম্যাচের সব কটিতেই জয় পেয়েছেন কোচ পচেত্তিনো। স্টেট ফার্ম স্টেডিয়ামে মূলত মেক্সিকান সমর্থকদের ভিড়ের সামনে পাওয়া শনিবারের এই জয়টি সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের টানা দুটি হারের ধারা ভেঙেছে। সেই সঙ্গে ২০২৩ সালের কনকাকাফ নেশনস লিগের সেমিফাইনালের পর এই দুই দলের লড়াইয়ে এটিই সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয়।
এই জয়ের মাধ্যমে জাতীয় দলের ইতিহাসে ২০টি জয় পাওয়া মাত্র সপ্তম কোচ হিসেবে রেকর্ড বইয়ে ঢুকে গেছেন পচেত্তিনো। আগামী মঙ্গলবার কানাডার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের মধ্য দিয়ে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর উইন্ডোর আন্তর্জাতিক সূচি শেষ করবে যুক্তরাষ্ট্র।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন