অক্টোবর ৪, ২০২৬, ১১:৪২ এএম
বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে খাবারের আয়োজন একটি অপরিহার্য অনুষঙ্গ। খাবার ছাড়া উৎসবের আনন্দ কোনোভাবেই পূর্ণতা পায় না। আসন্ন দুর্গাপূজার দিনগুলোতে অতিথি আপ্যায়ন কিংবা পারিবারিক ভোজের জন্য ঘরেই সহজে তৈরি করা যায় এমন তিনটি ঐতিহ্যবাহী পদের রন্ধন প্রণালি তুলে ধরা হলো। উৎসবের পাতে সকাল কিংবা বিকেলের নাস্তায় লুচি অন্যতম সেরা পছন্দ।
নরম তুলতুলে লুচি তৈরির জন্য প্রয়োজন এক কাপ ময়দা, দুই টেবিল চামচ আটা, পরিমাণমতো কালিজিরা, এক টেবিল চামচ তেল, স্বাদমতো লবণ এবং সামান্য চিনি। ময়দা ও আটা একসঙ্গে মিশিয়ে নিলে ভাজার পর লুচি বেশ কয়েক ঘণ্টা নরম থাকে। একটি পাত্রে ময়দা ও আটার সঙ্গে লবণ, কালিজিরা ও সামান্য চিনি মেখে নিতে হবে, তবে কেউ চাইলে চিনি বাদও দিতে পারেন। এরপর তেল দিয়ে পুরো মিশ্রণ ভালোভাবে মেখে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে খামির তৈরি করতে হবে। খেয়াল রাখা জরুরি যাতে খামির অতিরিক্ত নরম না হয়।

প্রস্তুত খামির ঢাকনা দিয়ে আধা ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। পরে খামির পুনরায় কিছুটা মথে নিয়ে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে নিতে হবে। বেলুনে সামান্য তেল মেখে ছোট রুটির আকারে বেলে ডুবো তেলে বাদামি বা সোনালি করে ভাজলেই তৈরি হয়ে যাবে নরম লুচি। মিষ্টিমুখের চিরায়ত আয়োজনে পূজার অবিচ্ছেদ্য পদ নারকেল নাড়ু। এই নাড়ু তৈরির জন্য লাগবে একটি মাঝারি আকারের নারকেল, সোয়া কাপ আখের গুড়, চার টেবিল চামচ সুজি, দুই টেবিল চামচ গুঁড়া দুধ, ঘি ও চারটি এলাচ দানা। শুরুতে মাঝারি আকারের নারকেলটি ভালোভাবে কুরিয়ে নিতে হবে এবং সুজি আলাদা করে হালকা বাদামি রঙে ভেজে রাখতে হবে।
কড়াইতে কোরানো নারকেল, আখের গুড়, গুঁড়া করা এলাচ দানা ও গুঁড়া দুধ দিয়ে মাঝারি আঁচে ঘন ঘন নাড়তে হবে। নারকেলের ভেজা ভাব বা পানি শুকিয়ে আসতে শুরু করলে ভাজা সুজি ও এক চিমটি কর্পূরদানা মিশ্রণে যোগ করতে হবে। এরপর অনবরত নাড়াচাড়া চালিয়ে মিশ্রণে আঠালো ভাব এলে দুই চামচ ঘি ঢেলে দিতে হবে। নাড়তে নাড়তে সুন্দর পাক বা বাঁধুনি চলে এলে কড়াই চুলা থেকে নামিয়ে নিতে হবে। মিশ্রণটি হালকা ঠান্ডা হলে দুই হাতে ঘি মেখে গোল গোল করে নাড়ুর আকার দিতে হবে। সবশেষে নাড়ুগুলো অল্প সাদা তিলের ওপর গড়িয়ে নিলে দেখতে দারুণ আকর্ষণীয় হয়।

লুচির সঙ্গে পরিবেশনের জন্য সবচেয়ে উপাদেয় পদ হলো আলুর দম। এর জন্য লাগবে একই আকারের ২০টি ছোট আলু, দুইটি তেজপাতা, এক চামচ আদা বাটা, এক চামচ হলুদ গুঁড়া, দুই চামচ লাল মরিচের গুঁড়া, আধা চামচ ধনে গুঁড়া, এক চা চামচ জিরা গুঁড়া, আধা চামচ পাঁচফোড়ন, তিন চা চামচ তেঁতুলের রস, চারটি কাঁচা মরিচ, সামান্য চিনি, স্বাদমতো লবণ, সামান্য ঘি এবং দুই টেবিল চামচ তেল। রান্নার শুরুতে আলুর খোসা ছাড়িয়ে পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে যাতে কষ বের হয়ে আলু কালো না হয়। কড়াইতে তেল গরম করে পাঁচফোড়ন ও তেজপাতা ফোড়ন দিয়ে ভেজে নিতে হবে।
এরপর এক এক করে সব বাটা ও গুঁড়া মসলা সামান্য পানি দিয়ে ভালোভাবে কষিয়ে নিতে হবে। মসলা যত বেশি কষানো হবে খাবারের স্বাদ তত ভালো হবে। মসলা কষানো শেষে আলু দিয়ে পাঁচ মিনিট নেড়েচেড়ে ভুনে নিতে হবে। আলু সেদ্ধ হওয়ার জন্য পরিমাণমতো পানি ও কয়েকটি কাঁচা মরিচ দিয়ে ঢাকনা দিতে হবে। আলু সেদ্ধ হয়ে ঝোল কমে এলে ঢাকনা তুলে তেঁতুলের রস ও সামান্য চিনি দিতে হবে, যা রান্নায় চমৎকার ঘ্রাণ ও টক-মিষ্টি স্বাদ এনে দেয়। ঝোল মাখামাখা বা ভুনা অবস্থায় এলে নামানোর ঠিক আগে সামান্য ঘি ছড়িয়ে চুলা বন্ধ করতে হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন