অক্টোবর ৪, ২০২৬, ১২:৪২ পিএম
রাজধানীর মিরপুরের গোড়ান চটবাড়ি এলাকায় ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ৬২৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। আদালতের স্থগিতাদেশ থাকার পরও গত ২৪ সেপ্টেম্বর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের এই ঘটনায় শাহ আলী থানা পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ এনেছে প্রতিষ্ঠানটি।
রোববার (৪ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি হলে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন কোম্পানির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহিম ভূঞা।তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই সম্পত্তিটি ফারইস্ট ইসলামী লাইফ বৈধভাবে ভোগদখল করে আসছে। জমির মালিকানার সপক্ষে তাদের কাছে প্রয়োজনীয় সব দলিলপত্র ও রেকর্ড রয়েছে। সম্পত্তির একটি অংশে নিয়মিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং সেখান থেকে প্রতিষ্ঠানটি ভাড়াও পেয়ে আসছে। কিন্তু গত ৫ আগস্টের পর থেকে আনিসুল ইসলাম ওরফে নাজমুল নামের এক ব্যক্তি হঠাৎ করেই ওই সম্পত্তির ওপর নিজের দাবি উত্থাপন শুরু করেন।
নিজেকে স্থানীয় এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার ভাই হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়। বিষয়টি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। গত ২৯ জুলাই হাইকোর্ট বিভাগের আদেশে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই সম্পত্তির ওপর স্থগিতাদেশ বহাল রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আব্দুর রহিম ভূঞা জানান, আদালতের এই স্পষ্ট নির্দেশনা থাকার পরও গত ২০ সেপ্টেম্বর কোম্পানির নিয়োজিত নিরাপত্তাকর্মীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে শাহ আলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এর কয়েক দিন পর ২৪ সেপ্টেম্বর আনিসুল ইসলামের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে জোরপূর্বক ওই সম্পত্তিতে প্রবেশ করে। তারা সেখানে বেআইনিভাবে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে পুরো সম্পত্তি জবরদখল করে নেয় বলে দাবি করেন ফারইস্টের এই শীর্ষ কর্মকর্তা।
এই জবরদখলের পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। দখলকাণ্ডের পর ২৭ সেপ্টেম্বর শাহ আলী থানায় আরও একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার অভিযোগ, দুটি সাধারণ ডায়েরি করা এবং একাধিকবার অবহিত করার পরও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেনি। তিনি প্রশ্ন রাখেন, আদালতের আদেশ কি কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে এবং থানার দ্বারস্থ হয়েও একটি বৈধ প্রতিষ্ঠানকে কি পেশিশক্তির কাছে এভাবেই জিম্মি হয়ে থাকতে হবে?
একটি জীবনবিমা কোম্পানির সম্পদ শুধু তাদের নিজস্ব নয়, এর সঙ্গে অসংখ্য বিমাগ্রাহক ও অংশীদারদের সঞ্চয় জড়িত থাকায় তা রক্ষা করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন।পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফারইস্ট ইসলামী লাইফের পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আদালতের আদেশের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, ২৪ সেপ্টেম্বরের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার, রাজনৈতিক নেতার নাম ব্যবহারের অভিযোগ তদন্ত, পুলিশের ভূমিকার তদন্ত, আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবৈধ দখলমুক্ত করে কোম্পানির শান্তিপূর্ণ অবস্থান ফিরিয়ে আনা। আব্দুর রহিম ভূঞা সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা শুধু বিচার চাইছেন না, বরং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য তুলে আনার দাবি জানাচ্ছেন। কোম্পানির বিরুদ্ধে কারও কোনো বৈধ দাবি থাকলে সেটি যেমন উঠে আসা উচিত, তেমনি প্রভাব খাটিয়ে গ্রাহকের সম্পদ দখলের চেষ্টা হলে সেটিও জাতির সামনে উন্মোচিত হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন