রবিবার, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬,
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

চীনে এআই কনটেন্টের জন্য নিজের চেহারা ভাড়া দিচ্ছেন মানুষ

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

অক্টোবর ৪, ২০২৬, ০১:০১ পিএম

চীনে এআই কনটেন্টের জন্য নিজের চেহারা ভাড়া দিচ্ছেন মানুষ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বা এআই প্রযুক্তির প্রসার বিনোদন জগতে কাজের ধরনকে সম্পূর্ণ বদলে দিচ্ছে। ছবি, লেখা বা ভিডিও তৈরির গণ্ডি পেরিয়ে এবার চীনে এমন এক অদ্ভুত পেশার উদ্ভব হয়েছে, যেখানে মানুষ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিজের মুখের আদল বা চেহারার স্বত্ব অন্যের কাছে ভাড়া দিচ্ছেন। মূলত এআই-নির্ভর বিভিন্ন ভিডিও বা প্রচারণামূলক মাধ্যমে ব্যবহারের জন্যই চুক্তির বিনিময়ে এই অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

এখন নিজের সময় বা দক্ষতার বদলে কেবল চেহারাটিও অনেকের জন্য আয়ের একটি বড় সম্পদে পরিণত হয়েছে। এই প্রযুক্তির সাহায্যে একজন ব্যক্তির মুখের বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে অবিকল ডিজিটাল চরিত্র তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে সেই চরিত্রটিকে বিভিন্ন ছোট নাটক, ভিডিও, বিজ্ঞাপন বা অন্যান্য প্রচারণায় সহজেই ব্যবহার করতে পারেন নির্মাতারা। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রতিবার ক্যামেরার সামনে এসে সরাসরি অভিনয় করতে হয় না। সরাসরি অভিনয় না করেও শুধু নিজের চেহারার স্বত্ব দিয়ে নিয়মিত পারিশ্রমিক আয়ের এক নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে দেশটিতে।

তবে এই প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু বড় ঝুঁকিও রয়েছে। একবার মুখের ডিজিটাল প্রতিরূপ তৈরি হয়ে গেলে একজন ব্যক্তি যে চরিত্রে কখনোই অভিনয় করেননি বা বাস্তবের সঙ্গে যার কোনো সম্পর্ক নেই, এমন গল্পেও তার মুখ ব্যবহার করা হতে পারে। এ কারণে কোন ধরনের কাজে কতদিনের জন্য মুখটি ব্যবহার করা হবে এবং এর বিনিময়ে কী সুবিধা পাওয়া যাবে, তা চুক্তিতে স্পষ্ট থাকা ও পূর্ব-সম্মতি নেওয়ার বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয় যখন কারও অনুমতি ছাড়াই তার ছবি বা ভিডিও থেকে মুখের আদল চুরি করে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কোনো ব্যক্তিকে এমন ভিডিওতে বসানো সম্ভব, যা তিনি বাস্তবে কখনোই করেননি। এর ফলে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর পাশাপাশি ওই ব্যক্তির সামাজিক ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একজন মানুষ নিজের মুখ কতটা নিয়ন্ত্রণ করবেন এবং প্রযুক্তি সংস্থাগুলো কতটুকু অধিকার পাবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের বিষয়ে আইনি নীতিমালা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। রেস্ট অব ওয়ার্ল্ড ও গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এআই-নির্ভর বিনোদনের বাজার ভবিষ্যতে আরও বড় হলে নিজের মুখের ডিজিটাল সংস্করণের ওপর অধিকার কার— সেটিই ব্যক্তিগত আইনি অধিকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠবে।