মো. রেজাউল ইসলাম রিজু
অক্টোবর ৪, ২০২৬, ০২:৩৫ পিএম
ছবি: দিনাজপুর টিভি
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ ও খানসামা সীমান্তবর্তী এলাকায় কলার সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবে রত্ন জাতের ফুলকপি চাষ করে নতুন কৃষি সম্ভাবনা তৈরি করেছেন কৃষক মো. আমিনুল ইসলাম। একই জমিতে দীর্ঘমেয়াদি কলার পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি ফুলকপি আবাদ করে বাড়তি ফলন ও অতিরিক্ত আয়ের প্রত্যাশা করছেন তিনি। তবে সময়মতো রাসায়নিক সার না পাওয়া এবং কৃষি অফিস থেকে মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় তদারকি ও সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন এই চাষি।
বীরগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত ও খানসামা উপজেলার পার্শ্ববর্তী খানসামা ঘাটপাড়ের পশ্চিম পাশে গড়ে তোলা হয়েছে ভিলেজ এগ্রো নার্সারি অ্যান্ড ক্যাটল ফার্ম। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. আমিনুল ইসলাম প্রায় দুই একর পাঁচ শতাংশ জমিতে সাগর জাতের কলাগাছ রোপণ করেছেন। একই জমিতে মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গায় সাথী ফসল হিসেবে আবাদ করা হয়েছে রত্ন জাতের ফুলকপি।
উদ্যোক্তা আমিনুল ইসলাম জানান, কলা একটি দীর্ঘমেয়াদি ফসল হওয়ায় জমি ফেলে না রেখে একই সঙ্গে ফুলকপি চাষের সিদ্ধান্ত নেন। এর মাধ্যমে একক জমি থেকে বহুমুখী ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় পুষিয়ে লাভবান হওয়া সম্ভব। বর্তমানে ক্ষেতে কলা ও ফুলকপির চারা সতেজ ও ভালো অবস্থায় থাকলেও সার ব্যবস্থাপনা এবং সময়মতো কারিগরি পরিচর্যা নিশ্চিত করা নিয়ে তিনি সংশয়ে রয়েছেন।
কৃষক আমিনুল ইসলাম দিনাজপুর টিভি ডট কম-কে বলেন, অনেক আশা নিয়ে কলার সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবে ফুলকপি লাগিয়েছিলেন। কিন্তু কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের পরামর্শ বা সহযোগিতা তিনি পাননি। চাহিদা মাফিক প্রয়োজনীয় সার যথাসময়ে না মেলায় ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ভয় কাজ করছে। সঠিক পরিচর্যার ঘাটতিতে উৎপাদন খরচ উঠবে কি না তা নিয়ে তিনি শঙ্কিত। তবে এখন পর্যন্ত ফসলের অবস্থা সন্তোষজনক রয়েছে এবং সরকারি তদারকি পেলে আরও ভালো ফলন সম্ভব হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
কৃষকের এই অভিযোগের বিষয়ে খানসামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার দিনাজপুর টিভি ডট কম-কে জানান, খানসামায় কলার সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবে ফুলকপি চাষের এমন উদ্যোগ তিনি নিজেই এই অঞ্চলে প্রথম উৎসাহিত করেছেন এবং কৃষি বিভাগ নিয়মিতভাবে চাষিদের দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছে। মাঠ পর্যায়ের উপসহকারী কর্মকর্তারা প্রতিদিন কৃষকদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ফসল পরিদর্শন ও পরামর্শ দিচ্ছেন। কলা প্রায় এক বছরের দীর্ঘমেয়াদি ফসল হওয়ায় সাথী ফসল হিসেবে ফুলকপি আবাদ করলে কৃষকের আয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পায়।
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের সার্বিক কারিগরি সহায়তা দিতে কৃষি বিভাগ সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কৃষক আমিনুল ইসলাম সরাসরি তাদের দপ্তরে যোগাযোগ করেননি। তবে বিষয়টি অবগত হওয়ার পর পরই তাৎক্ষণিকভাবে একজন সহকারী কর্মকর্তাকে ওই ফসলের মাঠে সরেজমিন পরিদর্শনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ক্ষেতের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত সার ও বালাই ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিশ্চিত করা হবে।
কৃষি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, কলার বাগানে সাথী ফসল আবাদ জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার একটি অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত ও আধুনিক পদ্ধতি। তবে এই প্রক্রিয়ায় সাফল্য অর্জনে সঠিক জাত নির্বাচন, সুষম সার প্রয়োগ, নিয়মিত সেচ এবং ক্ষতিকর রোগবালাই দমনে কৃষি দপ্তরের নিবিড় পরামর্শ অপরিহার্য। সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ চাষিরা মনে করছেন, আমিনুল ইসলামের এই সমন্বিত চাষাবাদ সফল হলে স্থানীয় অন্য কৃষকরাও একই জমিতে বহুমুখী ফসল উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে উঠবেন।