অক্টোবর ৪, ২০২৬, ১২:৩১ পিএম
রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ৬৪ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত ইতিহাস ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ জেলা মানিকগঞ্জ। ঐতিহাসিক স্থাপনা, প্রাচীন জমিদারবাড়ি এবং প্রাকৃতিক বিনোদনকেন্দ্রের জন্য জেলাটি ভ্রমণপিপাসুদের কাছে অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য হিসেবে পরিচিত। ঢাকার কাছে একদিনের ভ্রমণে ঘুরে দেখার মতো মানিকগঞ্জের উল্লেখযোগ্য পাঁচটি দর্শনীয় স্থানের বিবরণ, যাতায়াত রুট এবং ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো। মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় অবস্থিত বালিয়াটি জমিদার বাড়ি দেশের প্রাচীন স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন।
প্রায় ১৬ হাজার ৫৫৪ বর্গমিটার জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই দৃষ্টিনন্দন কমপ্লেক্সে কারুকার্যখচিত সাতটি সুবিশাল দালান রয়েছে। কালের আবর্তে কিছু অংশ ক্ষয়প্রাপ্ত হলেও এর অনন্য নির্মাণশৈলী দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। রাজধানীর গুলিস্তান থেকে পাটুরিয়া বা মানিকগঞ্জগামী বাসে প্রায় দুই ঘণ্টায় কালামপুর বাসস্ট্যান্ডে নামা যায়। সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা অথবা সাটুরিয়ার স্থানীয় বাসে আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টায় বালিয়াটি প্রাসাদে পৌঁছানো সম্ভব। এছাড়া গাবতলী ও আমিনবাজার এবং বঙ্গবাজার থেকে সরাসরি সাটুরিয়ার বাস চলাচল করে। সাটুরিয়া বাসস্ট্যান্ডে নেমে ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়িতে মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই পৌঁছানো যায় এই ঐতিহাসিক জমিদারবাড়িতে।
শিবালয় উপজেলার যমুনা নদীর তীরে সবুজে ঘেরা তেওতা গ্রামে দাঁড়িয়ে রয়েছে আরেক ঐতিহ্যবাহী পুরাকীর্তি তেওতা জমিদার বাড়ি। এই চত্বরে অবস্থিত ঐতিহাসিক নবরত্ন মঠটি নির্মাণ করেছিলেন জমিদার শ্যামশংকর রায়। একসময় বহু দূর থেকেই দৃশ্যমান হতো সুউচ্চ এই মঠটি। ঢাকা থেকে আরিচাগামী বাসে সরাসরি আরিচা ঘাটে নেমে সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়ে সরাসরি তেওতা গ্রামে যাওয়া যায়। পাশাপাশি ভ্রমণকারীরা চাইলে নদীপথ ব্যবহার করেও সেখানে পৌঁছাতে পারেন। মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা গ্রামে অবস্থিত বেতিলা জমিদার বাড়ি স্থাপত্যের আরেকটি নিদর্শন।
এই প্রাচীন স্থাপনাটির সঠিক নির্মাণকাল ও ইতিহাস নিয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো লিখিত দলিল নেই। তবে স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, সত্য বাবু নামে এক বিত্তশালী বণিক ব্যবসা ও যোগাযোগের সুবিধার জন্য এই সুরম্য ভবনটি নির্মাণ করেছিলেন, যা কালক্রমে জমিদার বাড়ি হিসেবে পরিচিতি পায়। অন্য একটি লোকপ্রবাদ অনুসারে, কলকাতার বণিক জ্যোতি বাবু ছিলেন এই ভবনের প্রতিষ্ঠাতা পূর্বপুরুষ।
জেলা সদরের নিটোল দিঘির পাড়ে প্রায় আড়াইশ বছর আগে নির্মিত হয়েছিল সুউচ্চ মত্ত মঠ। প্রায় ১৫ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই মঠটির উচ্চতা আনুমানিক ২০০ ফুট। ইতিহাস ও জনশ্রুতি মতে, মঠটি নির্মাণের জন্য সুদূর ইরাক থেকে অভিজ্ঞ কারিগর এনেছিলেন মানিকগঞ্জের পটল গ্রামের জমিদার হেমসেন, যিনি পিতার শেষকৃত্য সম্পন্ন করার পর স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে এটি নির্মাণ করেন। গ্রামীণ ও কোলাহলমুক্ত পরিবেশে সপরিবারে অবকাশযাপনের জন্য সাটুরিয়া উপজেলার কামতা গ্রামে গড়ে তোলা হয়েছে নাহার গার্ডেন।
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের গোলড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে এর দূরত্ব মাত্র দুই কিলোমিটার। নাহার গার্ডেনে রয়েছে প্রায় তিন হাজার দেশি-বিদেশি প্রজাতির পাখি, নয়টি উট, একটি উটপাখি ও আটটি ময়ূর। শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে সুপরিসর পার্ক, ছোট-বড় চারটি পুকুর এবং টাইটানিক জাহাজের আদলে নির্মিত বিশেষ কাঠামো। এখানে সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ২০ টাকা। এছাড়া এখানে সাতটি পিকনিক স্পট রয়েছে, যা সদস্যসংখ্যা ও সময়ের ভিত্তিতে দিনপ্রতি ৬ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকায় ভাড়া নেওয়া যায়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন