রবিবার, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬,
কোরীয় উপদ্বীপ

ক্ষমা চাওয়ার জেরে এবার সাগরে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ৪, ২০২৬, ১১:৫১ এএম

ক্ষমা চাওয়ার জেরে এবার সাগরে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা মাইন বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হওয়ার পর পিয়ংইয়ংয়ের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছিল সিউল। এই দাবির ঠিক এক দিন পরই পূর্ব সাগরের দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া। শনিবার দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের পক্ষ থেকে এই সামরিক পদক্ষেপের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শনিবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে উত্তর কোরিয়ার ওয়নসান এলাকা থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। জাপান সাগর নামে পরিচিত ওই পূর্ব সাগর অভিমুখে ৭০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়েছে অস্ত্রটি। এই ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্তারিত প্রযুক্তিগত তথ্য বর্তমানে বিশ্লেষণ করছে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির কোস্টগার্ড জানিয়েছে, সমুদ্রে পড়া বস্তুটি একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং এই ঘটনার পর সমুদ্রের ওই এলাকার সব জাহাজকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নতুন করে আরও কোনো ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানো হয় কি না, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়িয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী। পুরো পরিস্থিতির যাবতীয় গোয়েন্দা তথ্য যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে বিনিময় করা হবে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মূল্যায়নে শনিবারই জরুরি বৈঠক করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ। দুই দেশের মধ্যবর্তী অসামরিকীকৃত অঞ্চলে উত্তর কোরিয়ার পুঁতে রাখা মাইনের বিস্ফোরণেই তাদের তিন সেনা আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ দক্ষিণ কোরিয়ার। এই ঘটনায় বুধবার পিয়ংইয়ংয়ের কাছে ক্ষমা চেয়েছিল দেশটির সামরিক বাহিনী। এর পরের দিন বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং উত্তর কোরিয়াকে আবারও আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানান।

কিন্তু শুক্রবার উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং দক্ষিণ কোরিয়ার সেই ক্ষমা চাওয়ার দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন।

এক বিবৃতিতে তিনি দক্ষিণ কোরিয়াকে ‘সত্যিই নিকৃষ্ট’ বলে অভিহিত করেন। প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের আলোচনার প্রস্তাবকে উপহাস করে একে ‘এমন প্রহসনের চূড়ান্ত পর্যায়, যা সবার দেখা উচিত’ বলে মন্তব্য করেন কিম ইয়ো জং। মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়া যে পদক্ষেপই নিক না কেন, পিয়ংইয়ং যেকোনো পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত রয়েছে বলেও কঠোর হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সিউলভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেজং ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রেসিডেন্ট চিওং সিয়ং-চ্যাং মনে করেন, কিম ইয়ো জংয়ের এই বক্তব্যের পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিক্রিয়া আদায়ের চেষ্টা হিসেবেই পিয়ংইয়ং এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে থাকতে পারে। তাঁর ধারণা, এটি নতুন ধরনের কোনো ক্ষেপণাস্ত্রও হতে পারে। চলতি বছর এ পর্যন্ত ১০টিরও বেশি দফায় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া, যার কয়েকটি ছিল দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়ার সরাসরি প্রতিবাদ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি পিয়ংইয়ংয়ের বৈরিতা চরম আকার ধারণ করেছে এবং দুই কোরিয়ার পুনঃএকত্রীকরণকে জাতীয় লক্ষ্য হিসেবে প্রত্যাখ্যান করার পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়াকে নিজেদের ‘প্রধান শত্রু’ হিসেবে ঘোষণা করেছে দেশটি।

সূত্র: গার্ডিয়ান