নভেম্বর ৩, ২০২৬, ১১:২৯ পিএম
বাইন্যান্সে অর্থ চুরির অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে উত্তর কোরিয়া। ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের শীর্ষ বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্স থেকে ছয়শত কোটি মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ সরিয়ে নেওয়ার যে দাবি ওয়াশিংটন করেছে, তাকে গুরুতর রাজনৈতিক উসকানি বলে আখ্যা দিয়েছে পিয়ংইয়ং।
দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএর বরাতে জানা গেছে, মার্কিন অভিযোগকে অযৌক্তিক কথাবার্তা বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন কিম ইয়ো জং। তিনি দাবি করেন, পিয়ংইয়ংয়ের ওপর দোষ চাপানোর এমন চেষ্টা নতুন কিছু নয়।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআই দাবি করে, উত্তর কোরিয়া সরকারের সাথে যুক্ত ট্রেডারট্রেইটর নামের একটি বিশেষায়িত হ্যাকার দল এই ভয়াবহ সাইবার চুরির সাথে জড়িত। সংস্থাটির দাবি মতে, গত সপ্তাহে এই নজিরবিহীন আর্থিক চুরির ঘটনাটি ঘটে।
ব্লকচেইনভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান টিআরএম ল্যাবসও এই সাইবার হানার পেছনে একই হ্যাকার গোষ্ঠীর হাত থাকার কথা জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্ল্যাটফর্মে হানা দেওয়ার মাত্র ২০ মিনিটের মাথায় বেশিরভাগ অর্থ একাধিক গোপন ঠিকানায় সরিয়ে ফেলে দুর্বৃত্তরা।
বিশ্লেষকদের মতে, ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের প্রাতিষ্ঠানিক ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত সংঘটিত একক বৃহত্তম চুরির ঘটনা।
এর আগে ২০২৫ সালে বাইবিট নামের আরেকটি ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ থেকে প্রায় ১৫০ কোটি ডলার সমমূল্যের অর্থ চুরির ঘটনা ঘটেছিল। সেই হামলার জন্যও উত্তর কোরিয়ার সাইবার বাহিনীকে দায়ী করেছিল পশ্চিমা নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে শীর্ষ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক পুনরায় শুরুর যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি পিয়ংইয়ং।
দক্ষিণ কোরিয়ার কূটনৈতিক মহলের ধারণা, উত্তর কোরিয়া সরকারের পক্ষ থেকে এত দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখানোর পেছনে ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য কঠোর অর্থনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা কাজ করছে। তাদের পর্যবেক্ষণ, পিয়ংইয়ংয়ের ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তির অস্ত্রভাণ্ডার উন্নয়নে অর্থের জোগান বন্ধ করতেই যুক্তরাষ্ট্র এমন অভিযোগ সামনে এনে কঠোর চাপ তৈরির পথ খুঁজছে।
অন্যদিকে সাইবার চুরির ঘটনার তীব্র ধাক্কা সামলে ক্রিপ্টো নেটওয়ার্কে লেনদেন ও অর্থ উত্তোলনের প্রক্রিয়া পুনরায় স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে বাইন্যান্স কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় সকাল দশটা থেকে তাদের নিজস্ব নেটওয়ার্ক ছাড়াও ইথেরিয়াম, সোলানা, এক্সআরপি এবং সুইসহ প্রধান কয়েকটি নেটওয়ার্কে নির্দিষ্ট কিছু কয়েন উত্তোলনের সুবিধা আবারও সচল করা হচ্ছে। এছাড়া আরবিট্রাম, অপটিমিজম, ট্রন ও বেস নেটওয়ার্কের লেনদেনও ধীরে ধীরে উন্মুক্ত করা হচ্ছে।
বাইন্যান্সের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গ্রাহকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চুরি যাওয়া অর্থের সিংহভাগই তারা নিজেদের অভ্যন্তরীণ জরুরি তহবিল থেকে সমন্বয় করে পূরণ করেছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন