নভেম্বর ৩, ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম
হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাবর্জ্য পরিশোধনের জন্য নিজস্ব বা কেন্দ্রীয়ভাবে বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) স্থাপনের নির্দেশ চেয়ে করা রিটের রুল শুনানির দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মুবিনা আসাফের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
কার্যতালিকায় মামলাটি উঠলেই শুনানি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন রিটকারী পক্ষের আইনজীবী সৈয়দ মহিদুল কবির। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) তিনি জানান, আদালত গত ২ নভেম্বর রুলটি শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি। একটি জাতীয় ইংরেজি দৈনিকে উন্মুক্ত ডাস্টবিনে বিপজ্জনক বর্জ্য স্তূপ করে রাখা সংক্রান্ত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে উন্মুক্ত স্থানে চিকিৎসাবর্জ্য ফেলে রাখার ফলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর যে মারাত্মক হুমকি তৈরি হচ্ছে, তা তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনটির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট ও সাংবাদিক আহমেদ আল আমীন। নোটিশের সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় ওই বছরের ১৯ মার্চ জনস্বার্থে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করা হয়।
রিট আবেদনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক এবং বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিবকে বিবাদী করা হয়।
প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০১৮ সালের ৮ এপ্রিল বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশসহ রুল জারি করেছিলেন। রুলে হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ সব ধরনের চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানে বর্জ্য অপসারণ ও পুনর্ব্যবহারের লক্ষ্যে নিজস্ব বা কেন্দ্রীয়ভাবে বর্জ্য পরিশোধনাগার স্থাপনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চান আদালত। একই সঙ্গে চিকিৎসাবর্জ্য অপসারণ, পুনর্ব্যবহার ও পরিবহনে পরিবেশ রক্ষা এবং জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তারও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সামনে উন্মুক্ত স্থানে বিপজ্জনক চিকিৎসাবর্জ্য ফেলে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। তাছাড়া চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের একটি বড় অংশই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফলে সাধারণ গৃহস্থালি বর্জ্যের সঙ্গে বিপজ্জনক চিকিৎসাবর্জ্য মিশে গিয়ে পরিবেশ মারাত্মক দূষণের শিকার হচ্ছে। অধিকাংশ বেসরকারি ক্লিনিক ও বড় হাসপাতালের নিজস্ব বর্জ্য পরিশোধনাগার না থাকায় পরিবেশ ও নাগরিক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর বিষয়টি পুনরায় শুনানির উদ্যোগে এল।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন