নভেম্বর ৩, ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম
বাংলাদেশে পোশাক শিল্পে অসন্তোষ ও শ্রমিকদের চলমান বিক্ষোভের পরিস্থিতির দিকে ভারত গভীরভাবে নজর রাখছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
বিক্ষোভের কারণে বাংলাদেশে সামগ্রিক পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও আঞ্চলিক সরবরাহ শৃঙ্খলে কোনো প্রভাব পড়তে পারে কি না, এমন প্রশ্ন রাখা হয়েছিল ভারতীয় মুখপাত্রের কাছে। জবাবে তিনি বলেন, তারা পরিস্থিতির ওপর দৃষ্টি রাখছেন। সেখানে কিছু ঘটনা ঘটেছে এবং ভারত সেগুলোর ওপর নজর রাখা অব্যাহত রেখেছে।
একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারত ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে যেতে আগ্রহী।
মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বাংলাদেশের পোশাকশ্রমিকরা কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করছেন। বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও সহিংসতার ঘটনা ঘটায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে।
বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) দেওয়া তথ্যের বরাতে জানা গেছে, ঢাকা, গাজীপুর ও মধ্য ময়মনসিংহের প্রায় চার হাজার নিবন্ধিত কারখানার মধ্যে অন্তত ৬৭০টি কারখানা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন মালিকরা।
নয়াদিল্লির এই সংবাদ সম্মেলনে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা অমীমাংসিত বিষয় নিয়েও প্রশ্ন করা হয়।
গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে জয়সওয়াল জানান, দুই দেশের মধ্যে যৌথ নদী কমিশন বিদ্যমান রয়েছে। গঙ্গাসহ সব অভিন্ন নদীর হিস্যা ও পানি ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আলোচনার জন্য এটিই নির্ধারিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো।
১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির ৩০ বছর মেয়াদ চলতি বছরই শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়েও জানতে চান সাংবাদিকরা। মুখপাত্র জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারতে সফরের জন্য আগেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ সংক্রান্ত কোনো অগ্রগতি বা নতুন তথ্য থাকলে তা যথাসময়ে প্রকাশ করা হবে।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক গতিপ্রকৃতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠলেও মুখপাত্র বিস্তারিত কোনো বিতর্কে যাননি। তিনি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ অংশীদারত্ব বজায় রাখার ওপরই জোর দেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন