নভেম্বর ৩, ২০২৬, ১০:৩১ পিএম
ইসরায়েলকে সহায়তা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সামরিক কূটনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল। ইসরায়েলকে দেওয়া বছরে প্রায় ৪০০ কোটি মার্কিন ডলারের বার্ষিক আর্থিক সহায়তা আগামী ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ পুরোপুরি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিনে একটি সাক্ষাৎকারে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে আনেন। ট্রাম্প দাবি করেছেন, এ বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কয়েক মাস আগেই তার বোঝাপড়া হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ইসরায়েলের অর্থনীতি এখন যথেষ্ট শক্তিশালী। তাদের মার্কিন অনুদানের আর দরকার নেই।
তবে এই ঘোষণার পেছনে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক যুক্তির বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির টানাপোড়েন স্পষ্ট। বিশেষ করে মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে তুমুল লড়াই চলছে।
ডেমোক্র্যাট শিবিরের প্রার্থীরা ইসরায়েলকে দেওয়া বার্ষিক সহায়তা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই কঠোর সমালোচনা করে আসছেন। মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ তার নির্বাচনি প্রচারণায় বিষয়টি সামনে এনে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন। ট্রাম্পের আশঙ্কা ছিল, ইসরায়েলকে প্রতি বছর বিপুল করদাতার অর্থ দেওয়ার ইস্যুটি ব্যালট বাক্সে রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে কাজে লাগাতে পারে বিরোধীরা। তাই সহায়তা বন্ধের কথা আগাম জানিয়ে সেই সমালোচনার পথ বন্ধ করার কৌশল নিয়েছেন তিনি।
একইসঙ্গে ট্রাম্পের নিজ রাজনৈতিক বলয় `মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন` বা ম্যাগা সমর্থকদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল বিদেশি অনুদান কমানো। সমর্থকদের মতে, মার্কিন করদাতাদের অর্থ বাইরের দেশে না পাঠিয়ে নিজেদের দেশের মানুষের কাজে ব্যয় করা উচিত।
সহায়তা বন্ধের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিন অর্থ এখন থেকে দেশের মানুষের স্বার্থেই সংরক্ষণ করা হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন