মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬,
আন্তর্জাতিক প্রত্যর্পণ

জাকির নায়েককে ভারতে প্রত্যর্পণ না করার সিদ্ধান্তে অনড় মালয়েশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নভেম্বর ৩, ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম

জাকির নায়েককে ভারতে প্রত্যর্পণ না করার সিদ্ধান্তে অনড় মালয়েশিয়া

ছবি: সংগৃহীত

ইসলামি বক্তা ও ধর্মপ্রচারক ডা. জাকির নায়েককে ভারতের কাছে হস্তান্তর না করার সিদ্ধান্তে অনড় অবস্থান নিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল স্পষ্ট করেছেন, জাকির নায়েককে নয়াদিল্লির হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়ে কুয়ালালামপুরের কোনো আইনি বা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নেই।

মালয়েশিয়ার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউ স্ট্রেইটস টাইমসের বরাতে জানা গেছে, ২০১০ সালে ভারতের সাথে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং মালয়েশিয়ার ১৯৯২ সালের অভ্যন্তরীণ প্রত্যর্পণ আইনের সুনির্দিষ্ট বিধিমালার আলোকে এই অবস্থান গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, জাকির নায়েককে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সম্প্রতি ভারত সরকারের পক্ষ থেকে নতুন কোনো অনুরোধও জমা পড়েনি।

মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক লিখিত বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারের এই অটল অবস্থান তুলে ধরেন।

পার্লামেন্ট সদস্য দাতুক ড. আহমাদ মারজুক শারির তোলা এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "মালয়েশিয়া সরকার ডা. জাকির নায়েককে ভারতে প্রত্যর্পণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই তাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি।"

উক্ত সংসদ সদস্য জানতে চেয়েছিলেন, জাকির নায়েককে ফেরত পেতে ভারতের সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক অনুরোধ কবে পৌঁছেছিল এবং নয়াদিল্লির দেওয়া নথিপত্র মালয়েশিয়ার প্রত্যর্পণ আইন ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির শর্ত পূরণ করে কি না।

নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ভারত সরকার সর্বপ্রথম ২০১৮ সালের ১৯ জানুয়ারি জাকির নায়েককে ফেরত চেয়ে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছিল।

পরবর্তীতে ২০২০ সালের ২৯ মে কূটনৈতিক চিঠির মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানায় নয়াদিল্লি।

গত সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যকার শীর্ষ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি নিশ্চিত করেছিল যে বৈঠকে জাকির নায়েকের প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়েছিল। ওই আলোচনার পর মালয়েশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সরকারের আইনি ও কূটনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করার দাবি ওঠে।

মালয়েশিয়ার বিরোধী রাজনৈতিক দল পাসের মহাসচিব দাতুক সেরি তাকিউদ্দিন হাসান তখন দাবি জানিয়েছিলেন, দুই শীর্ষ নেতার বৈঠকে ঠিক কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না, তা প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের খোলাসা করা উচিত। একই সঙ্গে ভারতের সরবরাহ করা অভিযোগের নথিপত্র মালয়েশিয়ার আইনের মানদণ্ডে উত্তীর্ণ কি না, তা ব্যাখ্যার দাবি জানান তিনি।

ভারতে মূলত অর্থপাচার এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং এর ভিত্তিতেই তার প্রত্যর্পণ চাওয়া হয়।

তবে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সর্বশেষ পার্লামেন্টারি বক্তব্য থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, নয়াদিল্লির দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক চাপ সত্ত্বেও তাকে হস্তান্তরের বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি রক্ষা বা বাস্তবায়ন করছে না কুয়ালালামপুর।