মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬,
স্বাস্থ্যসেবা ও সংস্কার

সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে বেসরকারি ক্লিনিক নিষিদ্ধ করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

নভেম্বর ৩, ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম

সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে বেসরকারি ক্লিনিক নিষিদ্ধ করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

সরকারি হাসপাতালের সীমানার এক কিলোমিটার এলাকার মধ্যে নতুন কোনো বেসরকারি ক্লিনিকের অনুমোদন না দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিক পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরকারের এই কঠোর নীতিমালার কথা তুলে ধরেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়কালে আইনবহির্ভূতভাবে এসব প্রতিষ্ঠানের একটি বড় অংশ চালু হয়েছিল।

তিনি জানান, জেলা প্রশাসন ও জেলা সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে যৌথ দল নিয়মিত বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে সরেজমিন পরিদর্শন চালাচ্ছে। পরিদর্শনকালে কোনো প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ধরা পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে সেবা বিঘ্নিত না করে পর্যায়ক্রমে এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হবে।

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই আকস্মিকভাবে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশ করেন।

হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসাসেবার বাস্তব অবস্থা, ওয়ার্ডের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সাধারণ রোগীদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধার খোঁজ নিতে তিনি এই পরিদর্শন পরিচালনা করেন। এ সময় তিনি হাসপাতালের অন্তর্বিভাগ ও বহির্বিভাগের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং সেখানে চিকিৎসাধীন ভর্তি রোগীদের শয্যাপাশে গিয়ে সরাসরি কথা বলে তাদের চিকিৎসা ও পথ্যের খোঁজ নেন।

পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, নার্স এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি হাসপাতালে বিদ্যমান ওষুধের সরবরাহ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতের নানামুখী সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।

কর্মক্ষেত্রে সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিতের তাগিদ দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন, সরকারি নিয়ম মেনে প্রত্যেক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীকে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে হবে। সরকারি হাসপাতালে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা যেন কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা বজায় রাখার নির্দেশ দেন তিনি।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক খন্দকার মাশুকুর রহমান, কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কিশোর কুমার দাশ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন মুন্সি এবং কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।