মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬,

পঞ্চগড়ে বিদ্যালয়ের জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের প্রতিবাদে মানববন্ধন

আবু সালেহ মোঃ রায়হান

নভেম্বর ৩, ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম

পঞ্চগড়ে বিদ্যালয়ের জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের প্রতিবাদে মানববন্ধন

ছবি: দিনাজপুর টিভি

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের প্রতিবাদে এবং ওই জমি পুনরুদ্ধারের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে বোদা সরকারি পাইলট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বোদা বাজারে পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁও মহাসড়কের একপাশে দাঁড়িয়ে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা ব্যানার হাতে অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বোদা সরকারি পাইলট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রুবেল ইসলাম।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কলেজ শাখার শিক্ষক নুরে আলম জাকারিয়া রতন, স্কুল শাখার সহকারী শিক্ষক আলমগীর হোসেন এবং ভোকেশনাল শাখার সহকারী শিক্ষক হাওয়ানুর লিপি আরা বেগম।

বক্তারা অভিযোগ করে জানান, বোদা পৌরসভার মসলেমপুর মৌজার ৩৬৫ নম্বর দাগে অবস্থিত ৩৬ দশমিক ৫ শতক জমি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে মালিকানাধীন রয়েছে। কিন্তু উপযুক্ত মালিকানার নথিপত্র ছাড়াই স্থানীয় বদিউজ্জামান বদি, জহিরুল ইসলাম, মাহমুদুল হক, গোলাম ফারুক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা ওই জমি নিজেদের দাবি করে জবরদখল চালাচ্ছেন এবং অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত রেখেছেন।

শিক্ষক প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, দখলদারেরা জমিটি ফেরত না দিয়ে অতীতে আদালতে মামলা দায়ের করেছিল।

আদালতের সেই রায়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জমিটির বৈধ মালিকানা ফিরে পায়। তবে দখলদার পক্ষ পরবর্তীতে আবারও আদালতে গিয়ে ওই জমিতে স্থিতাবস্থার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায়।

আদালতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জমিতে না গেলেও দখলদার চক্র আদালতের সেই নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রকাশ্যেই একের পর এক পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে চলেছে বলে মানববন্ধনে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

সমাবেশ থেকে সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে বিদ্যালয়ের জমি সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করার জোর দাবি জানানো হয়। দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বৃহত্তর কঠোর আন্দোলনে নামার কড়া হুঁশিয়ারি দেন।