নভেম্বর ৩, ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার তাঁর জুনিয়র বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে দ্বিতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকার আদালতে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক মো. হাসান শাহাদাত এই রিমান্ডের আদেশ দেন।
মামলার অধিকতর তদন্ত, হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন এবং নেপথ্যে থাকা অন্যান্যদের শনাক্ত করতে পুলিশ সাত দিনের রিমান্ড আবেদন জানালেও আদালত তিন দিন মঞ্জুর করেন।
আদালতে শুনানিকালে আসামিপক্ষের আইনজীবী মোতাসিম বিল্লাহ রিমান্ডের জোরালো বিরোধিতা করেন।
তিনি আদালতে বলেন, তাঁর মক্কেল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির একজন শিক্ষার্থী এবং তিনি বর্তমানে শারীরিকভাবে বেশ অসুস্থ। তিনি নিয়মিত খাবার পাচ্ছেন না এবং তাঁর শারীরিক অবস্থাও ঝুঁকিপূর্ণ। পড়াশোনা নির্বিঘ্ন রাখার স্বার্থে তাঁকে বারবার রিমান্ডে নেওয়া অযৌক্তিক বলে দাবি করেন তিনি।
আইনজীবী অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য থেকে মনে হচ্ছে জোরপূর্বক তাঁর মক্কেলকে দিয়ে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করানোর চেষ্টা চলছে।
শুনানির এই পর্যায়ে এজলাসে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিচারক।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ড আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
তিনি দাবি করেন, আসামি অত্যন্ত কৌশলী প্রকৃতির। তিনি ঘটনার অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানলেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তা স্বীকার করতে চাইছেন না। ফলে এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য ও মোটিভ উদ্ঘাটনের জন্য তাঁকে আরও সাত দিন হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।
এর আগে গত ৩১ অক্টোবর প্রথম দফায় চার দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠানো হয়েছিল দীপকে।
তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জানায়, পূর্ববর্তী রিমান্ডে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিললেও তা যাচাই-বাছাই করা এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্তে আসামিকে পুনরায় মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে।
আদালতে পেশ করা তদন্ত কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদন থেকে জানা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে তাহসিফকে তাঁর বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান দীপ।
এরপর তাহসিফ, দীপ এবং মামলার আরেক সন্দেহভাজন জেরিকা তাসনিম দিশা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করেন। রাতে একটি রেস্তোরাঁয় খাবার খাওয়ার পর দিশা নিজ বাসায় ফিরে যান।
তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, পরবর্তীতে ২৮ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১২টা ৪০ মিনিটে তাহসিফ ও দীপ টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় পৌঁছান।
দীপ জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছেন, সেখান থেকে মাজার বস্তির ভেতর দিয়ে তুরাগ নদের তীরবর্তী একটি খোলা মাঠে পৌঁছালে কয়েকজন অপরিচিত লোককে দেখে তাঁরা দুজন আলাদা হয়ে যান।
পুলিশের তদন্ত আবেদনে গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করা হয়, তাহসিফের মৃত্যুর ঠিক আগমুহূর্তে শেষবারের মতো দীপ ও দিশার সঙ্গেই তাঁর সাক্ষাতের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এই পারিপার্শ্বিকতায় সন্দেহভাজন এই দুজন কোনো না কোনোভাবে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলে ধারণা করছে তদন্ত সংস্থা। চার দিনের জিজ্ঞাসাবাদে দীপ বেশ কিছু স্পর্শকাতর তথ্য দিলেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে নীরবতা পালন করেছেন এবং উত্তর কৌশলে এড়িয়ে গেছেন।
হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য, ঘটনাস্থল সুনির্দিষ্ট করা, অন্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং প্রাসঙ্গিক আলামত উদ্ধারে দীপকে হেফাজতে রাখা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
উল্লেখ্য, গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে টঙ্গী সংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর নিহত কর্মকর্তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম বাদী হয়ে উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই দীপকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেয় এবং প্রথম দফার রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার পুনরায় তাঁকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের আবেদন জানালে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন