মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬,
বৈশ্বিক পণ্যবাজার

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় দরপতন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ৩, ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় দরপতন

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য মূল্যস্ফীতির আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। পূর্ববর্তী কার্যদিবসে প্রায় ২ শতাংশ বাড়লেও মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) আবারও দর হারিয়েছে এই মূল্যবান ধাতু।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা ২ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯০৪ দশমিক ৬৯ ডলারে। অন্যদিকে ডিসেম্বর সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার দর কমেছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ, যার ফলে প্রতি আউন্সের দাম নেমে এসেছে ৩ হাজার ৯১৪ দশমিক ৭০ ডলারে।

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তেলের বাজারে অস্থিরতা এই দরপতনের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

ইরানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা যুদ্ধ অবসানে চুক্তি এখনো অনেক দূরে বলে মন্তব্য করার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ডলারের বেশি বাড়ে। একই সময়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের কৌশলগত কেশম দ্বীপে সামরিক হামলা চালানোয় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি সরবরাহে সংকট দেখা দিলে তেলের দাম দীর্ঘদিন উচ্চপর্যায়ে আটকে থাকতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াবে। এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভসহ বিশ্বের শীর্ষ কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো কঠোর মুদ্রানীতি ধরে রাখতে কিংবা পুনরায় সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হতে পারে।

পণ্যবাজার কৌশলবিদ নিশতেশ শাহ জানান, তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা তৈরি হওয়ায় সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ধরে রাখার সুযোগব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দামের ওপর নেতিবাচক চাপ ফেলছে।

শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জের ফেডওয়াচ টুলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আর্থিক খাতের ব্যবসায়ীরা আগামী ডিসেম্বরে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এখন ৭৫ শতাংশ দেখতে পাচ্ছেন।

এর পাশাপাশি মঙ্গলবার শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরেও শেয়ার ও ধাতু বাজারে বাড়তি অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার মন্তব্য করেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় কোনো জয় এলে তা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ডেটা সেন্টার স্থাপন এবং বৃহত্তর প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগে জটিলতা তৈরি করতে পারে। প্রযুক্তি খাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারির আশঙ্কায় লোকসান ঠেকাতে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণে থাকা তাদের দীর্ঘদিনের অবস্থান কাটছাঁট করতে পারেন।

স্বর্ণের সামগ্রিক চাহিদার বিষয়েও সতর্কবার্তা এসেছে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের কাছ থেকে।

সংস্থাটি চলতি বছরে বিশ্বজুড়ে স্বর্ণে বিনিয়োগের পূর্বাভাস ৪০০ মেট্রিক টন থেকে কমিয়ে ২০০ মেট্রিক টনে নামিয়ে এনেছে। বিশেষ করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মাঝে স্বর্ণের বার ও কয়েনের চাহিদা কমে যাওয়াকে কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যদিও বৈশ্বিক কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ মজুত বাড়ানোর গতি অব্যাহত রয়েছে।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও একই ধরনের নিম্নমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে।

স্পট মার্কেটে রুপার দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪৮ দশমিক ৯৩ ডলারে ঠেকেছে। এর বাইরে প্লাটিনামের দর ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৪১৯ দশমিক ০৭ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৯৪০ দশমিক ৭৫ ডলারে।