নভেম্বর ২, ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় বিরল শারীরিক বৈশিষ্ট্যের একটি হলদেটে-সাদা রঙের ‘অ্যালবিনো’ জলঢোঁড়া সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। সাধারণত এই প্রজাতির সাপের ত্বক বাদামি ও কালচে ছোপযুক্ত হলেও, উদ্ধার হওয়া এই সাপটির গায়ের রঙ সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী। বন্যপ্রাণী গবেষক ও উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, জন্মগত ‘অ্যালবিনিজম’ নামক জিনগত পরিবর্তনের কারণে প্রাণীটির স্বাভাবিক রঙে এমন অভাবনীয় রূপান্তর ঘটেছে।
গত ২৭ অক্টোবর উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়নের হলদিয়াপুকুর গ্রাম থেকে সাপটি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে খবর পেয়ে সাপটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও উদ্ধারকারী সংস্থা ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিম ইন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. সহিদুল ইসলাম।
উদ্ধার হওয়া প্রাণীটি গ্রামীণ জনপদে জলঢোঁড়া এবং বিজ্ঞানীদের কাছে ‘চেকার্ড কিলব্যাক’ নামে সুপরিচিত। এর আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক পরিচিতি ফাউলিয়া পিসকেটর। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সম্পূর্ণ নির্বিষ এবং মানুষের জন্য কোনো ধরনের ক্ষতিকর নয়।
প্রাণিবিদদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অ্যালবিনিজম কোনো ব্যাধি বা পৃথক কোনো প্রজাতি নয়। এটি মূলত জন্মগত একটি জিনগত বৈশিষ্ট্য, যার প্রভাবে প্রাণীর শরীরে রঙ উৎপাদনকারী উপাদান মেলানিন তৈরির প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এই রঞ্জক পদার্থের অনুপস্থিতির কারণে প্রাণীর চামড়া স্বাভাবিক বর্ণ হারিয়ে ধবধবে সাদা কিংবা হলদেটে আকার ধারণ করে। এমনকি অনেক সময় চোখের মণিও লালচে বা ভিন্ন রঙের রূপ নেয়। প্রাকৃতিক পরিবেশে এ ধরনের অ্যালবিনো জলঢোঁড়ার দেখা মেলা অত্যন্ত বিরল ঘটনা।
উদ্ধারকারী মো. সহিদুল ইসলাম জানান, উদ্ধার করা জলঢোঁড়া সাপটি বিষহীন হলেও সেটির শরীরে একাধিক আঘাতের ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। অ্যালবিনিজমের কারণেই এর ত্বকের রঙ সাধারণ বাদামির বদলে হলদেটে-সাদা হয়েছে, যা সচরাচর চোখে পড়ে না।
আঘাতপ্রাপ্ত সাপটির শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে এবং খোলস পরিবর্তনের পর শরীরে নতুন কোনো বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায় কি না তা যাচাই করতে বর্তমানে সেটিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সাপটি পুরোপুরি সুস্থ ও স্বাভাবিক হয়ে উঠলে সেটিকে পুনরায় প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন