নভেম্বর ৩, ২০২৬, ০৯:০৪ পিএম
বৈশ্বিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাজারে ফেসবুক, ইউটিউব কিংবা টিকটকের মতো বহুজাতিক প্ল্যাটফর্মের একচ্ছত্র আধিপত্যের ভিড়ে নিজস্ব ডিজিটাল পরিসর তৈরির স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশের নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম `ফ্রিডার`।
উত্তরাঞ্চলের বিভাগীয় শহর রংপুর থেকে পরিচালিত এই দেশীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটি ইতোমধ্যে ১০ লাখ নিবন্ধিত ব্যবহারকারীর মাইলফলক অতিক্রম করেছে।
রংপুর নগরীর স্টাফ কোয়ার্টার সংলগ্ন গঙ্গাচড়া সড়কের পাশে ভাড়া করা একটি ভবনে ফ্রিডারের প্রধান কার্যালয় স্থাপন করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
এখানে বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ১৫ জন শিক্ষিত তরুণ বেকারের নিয়মিত কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে।
`স্বাধীনতা উপভোগ করুন ফ্রিডারের মধ্যে`—এই প্রাতিষ্ঠানিক স্লোগানকে সামনে রেখে কাজ শুরু করা উদ্যোগটি উদ্যোক্তাদের কাছে নিছক একটি প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং দেশের নাগরিকদের নিজস্ব চিন্তা, সংবাদ, মতামত এবং ডিজিটাল সৃজনশীলতা প্রকাশের একটি খাঁটি জাতীয় ঠিকানা। ব্যবহারকারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য।
প্ল্যাটফর্মের মূল প্রতিষ্ঠাতা ও উদ্যোক্তা মো. আখতারুজ্জামান জানান, দেশ ও বিদেশের নানা প্রান্তের বাংলাভাষী মানুষের মাঝে ফ্রিডারকে ঘিরে ইতিবাচক সাড়া ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে প্ল্যাটফর্মটিতে নিবন্ধিত মোট গ্রাহক সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে এবং প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার থেকে ৫ হাজার নতুন ব্যবহারকারী এতে যুক্ত হচ্ছেন।
তবে ব্যবহারকারীর দ্রুত বৃদ্ধির সঙ্গে সংগতি রেখে নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদানে সার্ভার অবকাঠামো আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
আখতারুজ্জামান আরও উল্লেখ করেন, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত উপাত্তের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা রক্ষা করা, কুরুচিপূর্ণ বা অশ্লীল উপাদান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রাখা এবং দেশীয় সামাজিক মূল্যবোধের সুরক্ষায় কাজ করছে তাদের কারিগরি দল। এর পাশাপাশি কনটেন্ট নির্মাতাদের উপার্জিত অর্থের ন্যায্য লভ্যাংশ সরাসরি তাদের কাছে হস্তান্তরের বিষয়টিকে প্ল্যাটফর্মটি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
বৈশ্বিক টেক জায়ান্টদের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতার বাস্তবতা তুলে ধরে ফ্রিডারের সেবা সহায়তাবিষয়ক প্রধান মো. রেজাউল করিম বলেন, ফেসবুক বা অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে প্রযুক্তি বাজারে টিকে থাকা বেশ চ্যালেঞ্জিং।
তিনি মন্তব্য করেন, ওইসব বহুজাতিক সংস্থার রয়েছে দীর্ঘদিনের অর্জিত বিশ্বাসযোগ্যতা, আন্তর্জাতিক অবকাঠামো ও বিপুল মূলধন।
ফ্রিডারকে টেকসই করতে হলে ব্যবহারকারীদের আস্থা রক্ষার পাশাপাশি সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও দ্রুততম গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করতে হবে, যার জন্য সরকারি নীতিগত পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ প্রয়োজন।
বাজারজাতকরণ ও বাণিজ্যিক সুবিধার বিষয়ে ফ্রিডারের বিপণন প্রধান বাদশা আলম জানান, সাধারণ নাগরিক ও তৃণমূল কনটেন্ট নির্মাতাদের সুবিধার্থে মাত্র ১৫০ টাকায় ব্যক্তিগত প্রোফাইল যাচাই এবং ৩০০ টাকায় প্রাতিষ্ঠানিক পেজ ভেরিফিকেশনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া স্বল্প ব্যয়ে পোস্ট বুস্টিং এবং ন্যূনতম ১ হাজার অনুসারী বা ফলোয়ার থাকলেই কনটেন্ট নির্মাতাদের আয়ের জন্য বিশেষ মনিটাইজেশন সুবিধা চালু রয়েছে।
প্ল্যাটফর্মের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হিসেবে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা সহজতর করা, উন্নত অ্যালগরিদম তৈরি ও সার্ভার নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ফ্রিডারের নিয়মিত ব্যবহারকারী জুয়েল আহমেদ মনে করেন, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন ও ই-কমার্সের বিশাল অঙ্কের অর্থ যেন দেশীয় অর্থনীতির ভেতরেই আবর্তিত হয়, সে জন্য সরকারি ও বেসরকারি উভয় পর্যায় থেকেই এই ধরনের উদ্যোগকে নীতিগত সুরক্ষা দেওয়া উচিত।
অপর একজন নিয়মিত ব্যবহারকারী জনি রহমানের মতে, রংপুর থেকে প্রান্তিক পর্যায়ে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ এখন দেশীয় প্রযুক্তির সক্ষমতা ও আত্মমর্যাদার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন