নভেম্বর ৩, ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম
মানবদেহকে সুস্থ, সতেজ ও কর্মক্ষম রাখতে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের ভূমিকা অপরিসীম। নিয়মিত সুষম পুষ্টি গ্রহণ একদিকে যেমন শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়ায়, অন্যদিকে হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করে।
দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ভিটামিন বি১ বা থায়ামিন নিশ্চিত করা শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই উপাদানটি মূলত খাদ্যের কার্বোহাইড্রেটকে সরাসরি শক্তিতে রূপান্তরিত করতে সহায়তা করে এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা সচল রাখে।
পুষ্টিবিদদের মতে, ব্ল্যাক বিন বা কালো শিম, মসুর ডাল, সামুদ্রিক টুনা মাছ এবং সূর্যমুখীর বীজের মতো সহজলভ্য খাদ্য উপাদানে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি১ পাওয়া যায়।
শরীরের জন্য অন্যতম সেরা প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হলো ভিটামিন সি।
এই উপাদানটি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি রক্তে এইচডিএল বা উপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য প্রতিদিন অন্তত ৭৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি গ্রহণ করা অপরিহার্য, তবে সুস্থতার স্বার্থে দৈনিক ২০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত গ্রহণ করা সবচেয়ে নিরাপদ ও উপযোগী।
তাজা স্ট্রবেরি, ব্রকলি, লেবু বা কমলার মতো সাইট্রাসজাতীয় টক ফল এবং ব্রাসেলস স্প্রাউট ভিটামিন সি-এর অন্যতম প্রধান প্রাকৃতিক ভাণ্ডার।
হাড়ের সুরক্ষায় ভিটামিন ডি মানবদেহে ক্যালসিয়াম শোষণে প্রত্যক্ষ অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।
শরীরে এই ভিটামিনের দীর্ঘমেয়াদী ঘাটতি তৈরি হলে অস্টিওপরোসিসের মতো জটিল হাড়ের ক্ষয়রোগ দেখা দিতে পারে, এমনকি নির্দিষ্ট কিছু ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়।
স্যামন ও টুনার মতো তৈলাক্ত মাছ এবং দুধ বা সিরিয়ালের মতো পুষ্টিকর খাদ্য থেকে সরাসরি ভিটামিন ডি মেলে। এ ছাড়া নিয়মিত ভোরের উন্মুক্ত সূর্যের আলোর সংস্পর্শে এলে মানবদেহ নিজস্ব প্রক্রিয়ায় ভিটামিন ডি সংশ্লেষণ করতে সক্ষম।
মানবদেহে রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া প্রতিরোধে প্রধান ভূমিকা পালন করে আয়রন।
এই খনিজটি দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী রাখার মাধ্যমে পরোক্ষভাবে মানুষের স্মৃতিশক্তি ও মানসিক মনোযোগ বৃদ্ধিতে বড় অবদান রাখে।
দৈনিক শারীরিক প্রয়োজনে একজন সুস্থ ব্যক্তির অন্তত ১৮ মিলিগ্রাম আয়রন সমৃদ্ধ পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করা আবশ্যক।
উৎস হিসেবে লাল মাংস, ঝিনুকজাতীয় সামুদ্রিক প্রাণী, বিভিন্ন জাতের মাছ এবং মুরগির মাংসকে আয়রনের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট উৎস হিসেবে গণ্য করা হয়।
শরীরে শক্তি উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে ভিটামিন বি২ বা রিবোফ্লাভিন।
এটি মূলত শরীরে গৃহীত চর্বি, শর্করা ও প্রোটিন ভেঙে প্রয়োজনীয় জৈব শক্তি উৎপাদনে সরাসরি কাজ করে থাকে। অতিরিক্ত চর্বিমুক্ত মাংস, বিভিন্ন ধরনের সবুজ শাকসবজি এবং তরল খাঁটি গরুর দুধ থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন বি২ সহজেই সংগ্রহ করা সম্ভব।
হাড় ও দাঁতের সুদৃঢ় কাঠামোগত সুরক্ষায় শরীরের জন্য ক্যালসিয়াম অপরিহার্য এক খনিজ উপাদান।
এটি বয়স্কদের মাঝে হাড় ক্ষয়জনিত অস্টিওপরোসিসের জটিল ঝুঁকি ব্যাপকভাবে হ্রাস করে।
দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারকে ক্যালসিয়ামের সবচেয়ে সেরা প্রাকৃতিক উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর পাশাপাশি নিয়মিত ডাল এবং গাঢ় সবুজ রঙের তাজা শাকসবজি খাদ্যতালিকায় রাখলে ক্যালসিয়ামের সামগ্রিক চাহিদা পূরণ হয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন