মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬,
ভর্তি পরীক্ষা পেছানোর উদ্যোগ

বিশ্ববিদ্যালয়-মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা পেছাচ্ছে!

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ৩, ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম

বিশ্ববিদ্যালয়-মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা পেছাচ্ছে!

ছবি: সংগৃহীত

চলতি ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য সাপ্লিমেন্টারি বা বিশেষ পরীক্ষা নেওয়ার প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা পেছানোর বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় এই প্রাথমিক ঐকমত্য গড়ে ওঠে।

তবে ভর্তি পরীক্ষাগুলো সুনির্দিষ্টভাবে কত দিন পেছানো হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়নি।

‍‍`এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬-এর উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন এবং সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা গ্রহণ সংক্রান্ত‍‍` এই উচ্চপর্যায়ের সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

বৈঠক সূত্র নিশ্চিত করেছে, সভায় এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার দৌড়ে শামিল করার মানবিক দিক বিবেচনা করে ভর্তি পরীক্ষার পূর্বনির্ধারিত সূচি পিছিয়ে দেওয়ার জন্য উপাচার্যদের বিশেষভাবে অনুরোধ জানান মন্ত্রী।

শুরুর দিকে কয়েকজন উপাচার্য একাডেমিক সেশনজটের আশঙ্কা প্রকাশ করে এ প্রস্তাবে কিছুটা আপত্তি জানালেও মন্ত্রীর জোরালো আহ্বানের পর সার্বিক বিবেচনায় তারা নীতিগত সম্মতি প্রকাশ করেন।

বৈঠকে অংশ নেওয়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজসহ দেশের সব সাধারণ ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা পেছানোর স্পষ্ট সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষগুলো নিজেদের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা সম্পন্ন করে ভর্তি পরীক্ষা ঠিক কত দিন বা কত সপ্তাহ পেছানো সম্ভব, তা লিখিতভাবে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করবে।

গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম অংশ নেন।

এ ছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলসহ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই ধরনের সাপ্লিমেন্টারি বা বিশেষ পরীক্ষায় বসার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে সরকার।

এ বছর অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় প্রায় ছয় লাখ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন।

সারাদেশে সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে, যা বিগত ২২ বছরের জাতীয় ইতিহাসে সর্বনিম্ন ফলাফল। এমন নজিরবিহীন সংকটের মুখে মানবিক বিবেচনায় চার লাখের বেশি অকৃতকার্য শিক্ষার্থীকে এই বিশেষ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষা প্রশাসনের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এই বিশেষ সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে এবং একই মাসের শেষ নাগাদ ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। এতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা যেন কোনোভাবেই এক বছর পিছিয়ে না পড়েন এবং চলতি শিক্ষাবর্ষেই উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ পান, তা নিশ্চিত করতেই মূলত ভর্তি পরীক্ষা পেছানোর এই উদ্যোগ।

পূর্ববর্তী সরকারি সূচি অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল আগামী ৪ ডিসেম্বর।

ওই দিন সকাল থেকেই দেশজুড়ে সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল এবং ডেন্টাল কলেজের সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠানের কথা ছিল। এর পরদিন অর্থাৎ ৫ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হওয়ার সূচি নির্ধারিত ছিল।

সেই ধারাবাহিকতায় ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে দেশের সব প্রকৌশল, কৃষি এবং সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও নতুন সিদ্ধান্তের ফলে পুরো সময়সূচিতে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস আসতে যাচ্ছে।