মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬,
শ্রমিক আন্দোলনে ষড়যন্ত্র

শ্রমিক আন্দোলনে ভাঙচুর-আগুনের নেপথ্যে কারা, ব্যাখ্যা দিলেন আবিদ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ৩, ২০২৬, ০৮:২২ পিএম

শ্রমিক আন্দোলনে ভাঙচুর-আগুনের নেপথ্যে কারা, ব্যাখ্যা দিলেন আবিদ

পোশাক শিল্পাঞ্চলে চলমান শ্রমিক আন্দোলন সাধারণ শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে এবং এর নেপথ্যে ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক শক্তি ও তাদের নিষিদ্ধ সংগঠনের সুদূরপ্রসারী দেশি-বিদেশি চক্রান্ত কাজ করছে বলে দাবি করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় এই অভিযোগ তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান।

তিনি দাবি করেন, তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে আন্দোলনের নামে বর্তমানে যা ঘটছে, তা সাধারণ খেটে খাওয়া শ্রমিকদের হাতে নেই।

পতিত স্বৈরাচারের দোসর ও তাদের নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সুপরিকল্পিতভাবে বাসে আগুন, ভাঙচুর ও সহিংস কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এই আন্দোলনকে একটি ধ্বংসাত্মক রূপ দেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

আবিদুল ইসলাম জানান, সরকার মাত্র দুই দিন আগে নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে এবং খুব দ্রুতই সেখান থেকে ইতিবাচক মজুরি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আসার কথা রয়েছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, পতিত রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারী কিছু সুবিধাবাদী গার্মেন্টস মালিক শ্রমিকদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুল বুঝিয়ে রাজপথে নামিয়ে রাখছেন।

মালিকদের একটি চিহ্নিত অংশ অপপ্রচার চালাচ্ছে যে মালিকপক্ষ বেতন বাড়াতে প্রস্তুত থাকলেও সরকার তাতে বাধা দিচ্ছে এবং কাজ বন্ধ রাখার উদ্দেশ্যেই মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

একই সঙ্গে পতিত শক্তির অবৈধ অর্থায়নে নগদ অর্থ বিলিয়ে শ্রমিকদের কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

গাজীপুর ও রাজধানীর মিরপুরের শিল্পাঞ্চলের উদাহরণ টেনে ছাত্রদল নেতা বলেন, চার থেকে পাঁচটি পোশাক কারখানার স্বৈরাচারঘনিষ্ঠ মালিক সক্রিয় হলেই সহজে ১০ থেকে ২০ হাজার শ্রমিককে সড়কে নামিয়ে রাখা সম্ভব।

তিনি উল্লেখ করেন, পুলিশ ও গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের গাজীপুরে এনে জড়ো করা হয়েছে।

এক্ষেত্রে নিরীহ শ্রমিকদের সামনের কাতারে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে পেছনের সারির সন্ত্রাসীদের দিয়ে গণপরিবহনে আগুন, ভাঙচুর ও জাতীয় সম্পদ ধ্বংসের নৈরাজ্য চালানো হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আবিদুল ইসলাম দাবি করেন, আগামী ডিসেম্বর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের তৈরি পোশাক খাতে শতভাগ শুল্কমুক্ত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক পোশাক বাজারে এতদিন বাংলাদেশ নেতৃস্থানীয় ভূমিকায় ছিল, কিন্তু দেশের সেই বিশাল বাজার দখলে নিতে অপতৎপরতা চলছে।

বিগত কয়েক সপ্তাহে বিদেশি কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বাংলাদেশে এসে ঘুরে গিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পোশাক খাতকে বিতর্কিত করতে উদ্দেশ্যমূলক নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়েছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ছাত্রদলের এই নেতা আরও উল্লেখ করেন, আমাদের পোশাক খাত এখন দেশীয় নাশকতা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ষড়যন্ত্রের যুগপৎ শিকার।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও জাতীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার্থে এই সহিংস ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের পূর্ণ সাংবিধানিক অধিকার সরকারের রয়েছে।

আন্দোলনের নামে গণবিরোধী ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর কোনো নৈতিক কিংবা আইনি গ্রহণযোগ্যতা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ ও গণতান্ত্রিক সব রাজনৈতিক শক্তি ঐক্যবদ্ধভাবে এই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে।