অক্টোবর ৯, ২০২৬, ০৭:২৪ পিএম
প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বা রেমিট্যান্স শাটডাউনের হুমকি দিয়ে জামায়াতে ইসলামী দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি দাবি করেন, এটি জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থের রাজনীতি, অথচ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিএনপি সবসময় দেশের বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় রাজনীতি করে আসছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার আয়োজিত এক সাহিত্য পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, রেমিট্যান্স হলো বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম শক্তিশালী মূল চালিকাশক্তি। প্রবাসীদের পাঠানো এই রক্ত পানি করা অর্থে দেশের লাখ লাখ পরিবারের ভরণপোষণ চলে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি সচল থাকে। তাই দেশে রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধের হুমকি দেওয়ার অর্থ হলো দেশের সাধারণ মানুষকে ভাতে মারার অপচেষ্টা এবং সামগ্রিক জাতীয় উন্নয়নকে সরাসরি থামিয়ে দেওয়া। এটি চরম মানবতাবিরোধী ও গণবিরোধী পদক্ষেপ ছাড়া কিছুই নয়।
বিএনপির সাবেক নেতা মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) আখতারুজ্জামানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
রিজভী বলেন, বিএনপিতে থাকার সময়ও আখতারুজ্জামান দলীয় শৃঙ্খলাকে তোয়াক্কা করতেন না। তিনি বছরের পর বছর বিভিন্ন টেলিভিশন আলোচনায় বসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কটাক্ষ ও অহেতুক সমালোচনা করেছেন। আখতারুজ্জামান অদূর ভবিষ্যতে এমন কিছু পরিস্থিতি সৃষ্টি করবেন, যাতে জামায়াতও তাকে বহিষ্কার করতে বাধ্য হবে।
সম্প্রতি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে দেশের প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় তার নিষ্পত্তি হতে পারে। কিন্তু দায়িত্ব পালনরত কোনো সরকারি কর্মচারীকে সরাসরি মারধর করতে যাওয়া কিংবা ঔদ্ধত্যপূর্ণ হুংকার প্রদর্শন করা কোনো সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হতে পারে না।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ফ্যাসিবাদী শাসনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী কায়দায় যখন রাষ্ট্রের সমস্ত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও ভোটাধিকার ধ্বংস করা হয়েছিল, তখন বিএনপি বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আপসহীন সংগ্রাম পরিচালনা করেছে।
ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সতর্ক ও সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান রিজভী।
তিনি বলেন, ছাত্ররাজনীতিকে কেবল ফাঁকা মিছিল আর স্লোগানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। শিক্ষার্থীদের মেধা, চিন্তাশক্তি ও মননশীলতার পূর্ণ বিকাশ ঘটিয়ে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। মহৎ রাজনৈতিক নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হলে মানুষের দুঃখ-কষ্ট ও সমাজের বাস্তবতা অনুধাবন করার সংবেদনশীল মানসিকতা থাকা প্রয়োজন।
কমল কুঁড়ির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সহসম্পাদক নিলুফার চৌধুরী মনি, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আশরাফউদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন