শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬,
রাজনৈতিক বক্তব্য

দুষ্টু লোকের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় হয় না, তারা সুবিধাবাদী: ববি হাজ্জাজ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৯, ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম

দুষ্টু লোকের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় হয় না, তারা সুবিধাবাদী: ববি হাজ্জাজ

রাজনৈতিক দলের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অনৈতিক সুবিধা নিতে পারবে না বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, সেই দুষ্টু লোকের আসলে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয় থাকে না; তারা মূলত সুবিধাবাদী।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সামাজিক আন্দোলন’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সরকারি দল হিসেবে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিরোধী দল হিসেবে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজের বিতার্কিকরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠান শেষে মাদক কারবারিদের সঙ্গে সরকারি দলের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না—এমন সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দল ও সরকার দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। যদিও গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিরাই সরকার পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন, তবে রাজনৈতিক দল ও সরকার এক নয়। রাজনৈতিক দলে যে কেউ অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন এবং নির্বাচন কমিশনের আইন বা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের অধীনে কাউকে রাজনৈতিক দল থেকে বাধা দেওয়ার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, অপরাধের সঙ্গে যুক্ত দুষ্টু লোকের কোনো রাজনৈতিক আদর্শ বা পরিচয় থাকে না। তারা কেবল সুবিধাবাদী এবং যে দল বা মাধ্যমে নিজেদের সুযোগ সুবিধা বেশি মনে করে, সেখানেই আশ্রয় নেয়। বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মন্ত্রিসভা এবং সংসদ সদস্যদের এ বিষয়ে নিরলস প্রচেষ্টা রয়েছে। রাজনৈতিক নাম বা পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যেন কোনো ধরনের অনৈতিক সুবিধা নিতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাদক কারবার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে কি না এবং এ ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ববি হাজ্জাজ জানান, সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না। তবে সরকারের পরিধি অনেক বড় হওয়ায় সবার চিন্তা-চেতনা একরকম নাও হতে পারে। যতক্ষণ পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা অভিযোগ প্রমাণিত না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত সরকারের পক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না। সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত কেউ অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে প্রমাণ সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।