শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬,
ঢাবি ও এহিমে

এহিমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ গবেষণায় যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৯, ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম

এহিমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ গবেষণায় যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সামুদ্রিক বিজ্ঞান, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে যৌথ গবেষণা জোরদার করতে জাপানের এহিমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সহযোগিতার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এ লক্ষ্যে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সম্প্রতি জাপানের এহিমে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত রাসায়নিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় ওয়ান হেলথ পদ্ধতি শীর্ষক জাপান সোসাইটি ফর দ্য প্রমোশন অব সায়েন্সের কোর-টু-কোর সিম্পোজিয়ামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। ছয় থেকে আট অক্টোবর অনুষ্ঠিত এ সিম্পোজিয়ামে প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য শিক্ষা অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম।

প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবীর, মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ মামুন চৌধুরী, একই বিভাগের অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন ও অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুল্লাহ-আল-মামুন এবং সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান গভর্নেন্সের পরিচালক ড. কে এম আজম চৌধুরী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এহিমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর মেরিন এনভায়রনমেন্টাল স্টাডিজ এ সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করে। এতে সহযোগিতা করে লিডিং একাডেমিয়া ইন মেরিন অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট পলিউশন রিসার্চ। জাপান সোসাইটি ফর দ্য প্রমোশন অব সায়েন্সের সহায়তায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বাংলাদেশ, জাপান, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, মোজাম্বিকসহ বিভিন্ন দেশের গবেষকেরা অংশ নেন।

সিম্পোজিয়ামে মৌখিক ও পোস্টার উপস্থাপনার পাশাপাশি প্লেনারি অধিবেশন ও বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় টেকসই উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য ও জীবিকা সুরক্ষা এবং চিকিৎসা, কৃষি, মৎস্যচাষ ও পশুপালনে ব্যবহৃত রাসায়নিকের কারণে পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের ওপর সৃষ্ট বিরূপ প্রভাব কমানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সিম্পোজিয়ামের প্রথম মৌখিক উপস্থাপনা পর্বে অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম বাংলাদেশে বায়ুর গুণমান, এর উৎস এবং মানবস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব নিয়ে গবেষণাভিত্তিক বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

এ ছাড়া অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবীর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় রাসায়নিক গুদাম থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি নিয়ে পোস্টার উপস্থাপন করেন। অধ্যাপক মোহাম্মদ মামুন চৌধুরী বাংলাদেশে পাঙ্গাস মাছের বৃদ্ধিতে খাদ্যতালিকাগত সেলেনিয়াম ও জিঙ্ক ন্যানো-পার্টিকেলের প্রভাব নিয়ে গবেষণা তুলে ধরেন।

অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বাংলাদেশের জলজ পরিবেশে অ্যান্টিবায়োটিক দূষণ, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স এবং এসংক্রান্ত ঝুঁকি কমানোর কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। অন্যদিকে, ড. কে এম আজম চৌধুরী উত্তর বঙ্গোপসাগরে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রার ঋতুভিত্তিক পরিবর্তন এবং অক্সিজেনের স্বল্পতাপ্রবণ অঞ্চল নিয়ে মডেল ও পর্যবেক্ষণভিত্তিক যৌথ গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন।

সামুদ্রিক গবেষণায় সহযোগিতার উদ্যোগের অংশ হিসেবে আট অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য শিক্ষা অধ্যাপক ড. আবদুস সালামের নেতৃত্বে আইসিওজি ও সিএমইএসের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সিএমইএসের পক্ষে অধ্যাপক ড. জিনইউ গুও প্রতিনিধিত্ব করেন। এতে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ড. আকিহিকো মরিমোতোও অংশ নেন।

বৈঠকে আইসিওজির গবেষণা কার্যক্রম তুলে ধরেন সংগঠনটির পরিচালক ড. কে এম আজম চৌধুরী। এ সময় অধ্যাপক আবদুস সালাম সামুদ্রিক গবেষণা, মডেলিং ও পূর্বাভাস কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এসব ক্ষেত্রে সিএমইএসের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর আশাও প্রকাশ করেন তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশের ব্লু-ইকোনমি বা নীল অর্থনীতির বিকাশে সিএমইএসের ফিজিক্যাল-ইকোসিস্টেম অ্যান্ড পলিউশন কাপলিং মডেলের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশের সামুদ্রিক উন্নয়নে অধ্যাপক আকিহিকো মরিমোতোর গবেষণার গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে উভয় পক্ষের মধ্যে ক্রেস্ট বিনিময় করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে একাডেমিক আদান-প্রদান ও যৌথ গবেষণার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও এহিমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে শিগগিরই এ চুক্তি সই হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এ সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে সামুদ্রিক বিজ্ঞান, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ে যৌথ গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় এবং গবেষণাগত সক্ষমতা বৃদ্ধির নতুন সুযোগ তৈরি হবে।