নভেম্বর ৩, ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
দেশের নাগরিকদের দৃষ্টিহীনতা ও অন্ধত্ব দূরীকরণের লক্ষ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে বিনামূল্যে এক কোটি চশমা বিতরণ এবং ১০ লাখ মানুষের চোখের ছানি অপারেশনের সুনির্দিষ্ট জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছে সরকার। একই সময়সীমার মধ্যে জাতীয় রেফারেল ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় দুই কোটি নাগরিককে সমন্বিত চক্ষু স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনা হবে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বৈশ্বিক চক্ষু স্বাস্থ্য সম্মেলনে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও বক্তব্যে সরকারের এই ঐতিহাসিক স্বাস্থ্য প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের যৌথ উদ্যোগে অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা সরকারের আনুষ্ঠানিক আয়োজনে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে অন্যতম সহ-আয়োজক হিসেবে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ।
চক্ষু স্বাস্থ্যের আর্থসামাজিক প্রভাব তুলে ধরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব ও দৃষ্টিহীনতা কেবল একটি মানবিক বিপর্যয় নয়, বরং সমাজ ও জাতীয় অর্থনীতির ওপরও এর গভীর নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিশুদের যথাযথ শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, জাতীয় উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক নাগরিক সম্ভাবনা বাস্তবায়নে সুস্থ দৃষ্টিশক্তি বজায় রাখা অপরিহার্য।
সম্মেলনে সরকারের জাতীয় অগ্রাধিকার ও পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরে ডা. এম এ মুহিত জানান, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার চোখের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিশেষ জাতীয় অঙ্গীকার গ্রহণ করেছে।
এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২০২৬ থেকে ২০৩০ মেয়াদে সমন্বিত জাতীয় চক্ষু স্বাস্থ্য কর্মপরিকল্পনা মাঠপর্যায়ে কার্যকর করা হবে।
পরিকল্পনার বিস্তারিত কাঠামো উপস্থাপন করে প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের দুই কোটি প্রান্তিক মানুষকে সম্প্রসারিত রেফারেল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবার আওতায় নিয়ে আসা হবে।
একই সঙ্গে দৃষ্টি ত্রুটিজনিত সমস্যা লাঘবে সারা দেশে এক কোটি মানসম্মত চশমা বিতরণ করা হবে এবং সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১০ লাখ মানুষের চোখের জটিল ছানি অস্ত্রোপচার সম্পূর্ণ করার রোডম্যাপ প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, দেশের প্রত্যেক নাগরিকের চোখ নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্বমুক্ত একটি আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম প্রধান সামাজিক অঙ্গীকার।
সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার নীতি অনুসারে জাতীয় স্বাস্থ্য কাঠামোর ভেতর থেকেই অন্ধত্ব ও দৃষ্টি ত্রুটি প্রতিরোধ, প্রয়োজনীয় জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং রোগব্যাধির বিস্তার রোধে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
নাগরিকদের জন্য সার্বজনীন ও সহজলভ্য চোখের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে একযোগে কাজ করে যাবে বলে জানান তিনি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন