নভেম্বর ৩, ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম
নিয়মিত পাকা পেঁপে খাওয়া শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি করে এবং শারীরিক ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখার পাশাপাশি পাকা পেঁপেতে থাকা পর্যাপ্ত বিটা ক্যারোটিন মানবদেহের ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ও সজীবতা বজায় রাখতে অত্যন্ত কার্যকর।
তবে স্বাস্থ্য সুরক্ষার এসব পূর্ণ সুবিধা পেতে হলে বাজার থেকে নিখুঁত ও প্রাকৃতিকভাবে মিষ্টি পাকা পেঁপে বেছে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। পেঁপে কেনার ক্ষেত্রে প্রথমেই দৃষ্টি দিতে হবে ফলের বাহ্যিক রঙের বিন্যাসে।
পেঁপের বহিরাংশে হালকা খাঁজকাটা দাগ থাকে, যার দুটি খাঁজের মধ্যবর্তী অপেক্ষাকৃত উঁচু অংশটিকে শির বলা হয়।
প্রাকৃতিকভাবে এই শির থেকেই মূলত ফলের পরিপক্বতা শুরু হয়। যে পেঁপের উপরিভাগে গাঢ় হলুদ বা হলদে-কমলা আভা ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, সেটি নির্বাচন করা নিরাপদ। অন্যদিকে ত্বকে যদি সামান্য সবুজাভ ভাবও থাকে, তবে তা দু-এক দিনের মধ্যে ঘরেই স্বাভাবিকভাবে পেকে যাবে। তবে পেঁপের পুরো শরীরজুড়ে যদি অস্বাভাবিকভাবে সম্পূর্ণ সমান মসৃণ হলুদ রং ছড়ানো থাকে, তবে তা কেনা থেকে বিরত থাকা উচিত।
দ্বিতীয়ত, ফলের কোমলতা পরীক্ষার জন্য বুড়ো আঙুল দিয়ে পেঁপের গায়ে আলতো চাপ প্রয়োগ করে দেখতে হবে।
যদি পেঁপের বাইরের অংশ অতিরিক্ত শক্ত ঠেকে, তবে সেটি অপরিণত অবস্থায় গাছ থেকে পেড়ে নেওয়া হয়েছে।
বিপরীতভাবে আঙুল যদি অতিরিক্ত দেবে যায় বা ভেতরে ঢুকে নরম তরল অনুভূত হয়, তবে সেটি অতিপাকা পেঁপে, যা বাসায় নিলে একদিনের মধ্যেই পচে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। কেনার সময় সবসময় সেই পেঁপেটিই বেছে নেওয়া সমীচীন, যা সামান্য চাপে হালকা বসবে এবং চাপ সরিয়ে নিলে আবার আগের কাঠামোয় ফিরে আসবে।
তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যণীয় দিক হলো পেঁপের বোঁটার অংশ।
বোঁটার চারপাশে যদি সামান্য খাঁজকাটা দাগ এবং লালচে-হলুদ মিশ্রিত রঙের ছোঁয়া থাকে, তবে সেই পেঁপে নিশ্চিতভাবে ভেতরের দিক থেকে মিষ্টি হয়ে থাকে। বোঁটায় যদি ঘন সাদা আঠা বা কষের স্তর জমে থাকে, তবে তা কেনা একেবারেই অনুচিত। গাছপাকা পেঁপের শরীরে অতিরিক্ত সাদা কষ থাকে না। পেঁপের সারা অঙ্গে বাড়তি সাদা আঠা লেগে থাকার অর্থ হলো অপরিপক্ব অবস্থায় নামিয়ে রাসায়নিক উপায়ে তা পাকানো হয়েছে।
পরিপক্ব পেঁপের পরিচিতি নিশ্চিত করতে এর ঘ্রাণ শুঁকে নেওয়া একটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি।
গাছপাকা পেঁপের বোঁটার কাছ থেকে এক ধরনের হালকা ও মিষ্টি প্রাকৃতিক সুবাস নিঃসৃত হয়।
নাকের কাছে নিয়ে যদি কোনো গন্ধ পাওয়া না যায়, কিংবা ঝাঁজালো বা কোনো ধরনের পচা দুর্গন্ধ ভেসে আসে, তবে সেই ফল কেনা থেকে বিরত থাকতে হবে।
আকার ও কাঠামোর দিক থেকে সবসময় তুলনামূলক লম্বাটে এবং মাঝারি আকৃতির পেঁপে বেছে নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
পেঁপের গায়ে অতিরিক্ত কালচে ছোপ বা সূক্ষ্ম ছিদ্র থাকলে তা কখনোই কেনা যাবে না। এ ধরনের দাগযুক্ত পেঁপের ভেতরে পচন থাকে এবং প্রায়শই কীট বা পোকার সংক্রমণ দেখা যায়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন