নভেম্বর ৩, ২০২৬, ১১:৫৯ এএম
চুলের শুষ্কতা দূর করতে ও ভেঙে যাওয়া রোধে যুগ যুগ ধরে তেলের ব্যবহার চলে আসছে। তবে মাথার ত্বকে তেল ব্যবহার করলেই চুল রাতারাতি দ্রুত লম্বা হয়—এমন বহুল প্রচলিত বিশ্বাসের পক্ষে শক্ত কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, চুলের বৃদ্ধি মূলত নিয়ন্ত্রিত হয় মাথার ত্বকের ভেতরে থাকা চুলের গোড়া বা ফলিকল থেকে। শরীরের ভেতরের জিনগত বৈশিষ্ট্য, হরমোনের তারতম্য, দৈনন্দিন পুষ্টি এবং সার্বিক শারীরিক স্বাস্থ্যই চুল বাড়ার গতি নির্ধারণ করে। তেল সরাসরি গোড়া ভেদ করে বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে না পারলেও এটি চুলের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা ধরে রাখে, ঘর্ষণ কমায় এবং চুল ফেটে ভেঙে যাওয়া প্রতিরোধে ঢাল হিসেবে কাজ করে।
বিভিন্ন ধরনের তেল ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন ফলাফল পাওয়া যায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, খাঁটি নারিকেল তেল চুলের প্রোটিন ক্ষয় কমাতে এবং ডগা ভেঙে যাওয়া রোধ করতে বিশেষভাবে কার্যকর। শুষ্ক ও ক্ষতিগ্রস্ত চুলের সুরক্ষায় এটি চমৎকার কাজ করে। অন্যদিকে আর্গান অয়েল চুলের খসখসে ভাব, রুক্ষতা ও অনাকাঙ্ক্ষিত জট কমিয়ে চুলকে মসৃণ ও উজ্জ্বল রূপ দেয়।
কাঠবাদামের তেল আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং চুল সহজে আঁচড়াতে সহায়তা করলেও বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এর অবদান সীমিত।
রোজমেরি তেলের ব্যাপারে চিকিৎসকেরা জানান, প্রাথমিক কিছু বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় চুল পড়া কমানোর ক্ষেত্রে এর ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আরও গবেষণার অবকাশ রয়েছে। একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞরা সরাসরি মাথার ত্বকে এই তীব্র এসেনশিয়াল তেল না লাগিয়ে নারিকেল তেলের মতো বাহক তেলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।
অনেকে চুল ঘন করার আশায় ক্যাস্টর অয়েল মাখলেও চুল বাড়াতে এর সরাসরি ভূমিকার সপক্ষে সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ অনুপস্থিত।
ব্যবহারের নিয়ম নিয়ে বিশেষজ্ঞরা জানান, চুলে তেল দেওয়ার কোনো বাঁধাধরা নিয়ম নেই। সাধারণত সপ্তাহে এক থেকে দুই দিন শ্যাম্পু করার আগে তেল মালিশ করাই যথেষ্ট। সারা রাত তেল মেখে রাখার বাড়তি কোনো সুফল নেই। কিছুদিন তেল না লাগালেও চুলের কোনো স্থায়ী ক্ষতি হয় না।
চুল তাপজনিত ক্ষতি থেকেও তেল দিয়ে পুরোপুরি বাঁচানো যায় না। হেয়ার ড্রায়ার, স্ট্রেইটনার কিংবা কার্লিং আয়রন অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে চুল ভঙ্গুর হয়। তেল সামান্য কোমলতা দিলেও এসব যন্ত্রের তীব্র তাপ সামলাতে হিট প্রোটেকশন পণ্য ব্যবহার জরুরি।
চুল ভেঙে যাওয়া আর গোড়া থেকে চুল পড়া সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।
অতিরিক্ত তাপ, কড়া রাসায়নিক প্রসাধন কিংবা ভেজা চুলে জোরে চিরুনি চালালে ডগা ভেঙে যায়। কিন্তু বংশগত কারণ, হরমোনের পরিবর্তন, দীর্ঘ অসুস্থতা, মানসিক অবসাদ, ওষুধের প্রতিক্রিয়া কিংবা পুষ্টির ঘাটতি থাকলে চুল সরাসরি গোড়া থেকে ঝরতে থাকে।
দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত চুল পড়া বা মাথার ত্বকে চুলকানি, লালচে ভাব ও প্রদাহ দেখা দিলে সাধারণ তেলের ওপর নির্ভর না করে অভিজ্ঞ চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।
সুস্থ ও সুন্দর চুলের মূল চাবিকাঠি আসলে অভ্যন্তরীণ পুষ্টিতে। খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন ও ভিটামিন নিশ্চিত করা, দৈনিক পরিমিত ঘুম এবং মানসিক চাপমুক্ত জীবনযাপনের পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অযাচিত সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ পরিহার করার তাগিদ দিয়েছেন গবেষকরা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন